আগুন লাগলে সতর্ক করবে ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরানের উদ্ভাবিত রোবট রিবা

আগুন লাগলে সতর্ক করবে ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরানের উদ্ভাবিত রোবট রিবা

অফিস-আদালতে, শিল্প-কারখানার আগুন লাগলে মানুষের মতো আশপাশের লোকজনকে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলা ভাষায় ডেকে সতর্ক করার পাশাপাশি এলার্ম বাজিয়ে সতর্ক করে দিতে পারবে ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরান সরদারের উদ্ভাবিত রোবট ‘রিবা’। এছাড়াও ‘রিবা’ বাসা বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ও পাইপ লাইনের লিকেজ হলে অ্যালার্ম বাজিয়ে তাও সতর্ক করে দিতে পারবে।

রোবট ‘রিবা’ আগুন লাগা ছাড়াও চিকিৎিসা বিজ্ঞানে নিজের অবস্থান থেকে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা সেন্সরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা করে তাপমাত্র বলে দিয়ে সেই তাপমাত্রা ডিসপ্লেতেও দেখাতে পারে। নতুন উদ্ভাবিত ‘রিবা’ ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করা ছাড়াও হাত জীবাণু মুক্ত করতে অপচয় ছাড়াই পরিমাণ মতো অটোমেটিক হ্যান্ড স্যানিটাইজিং করতে পারে। মোট কথা রোবট ‘রিবা’ একজন চিকিৎসক, শিক্ষক, অভিভাবকের মতো নির্দেশক হিসেবে কাজ করার সাথে সাথে মানুষের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) মতো বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারবে। ‘রিবা’ রোবট হলেও শিশুদেরও বিনোদন দিতে কার্পণ্য করে না।

মানব জাতির জন্য কল্যানকর রোবট “রিবা” আবিস্কারক ইরান সরদার বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের গৈলা গ্রামের মো. ইব্রাহিম সরদার ও মমতাজ বেগমের তিন ছেলে মদ্যে ছোট ছেলে এবং সরকারী গৈলা মডেল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ ও মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে। ইরান বর্তমানে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে রোবটিক নিয়ে পড়াশুনার জন্য ভর্তিচ্ছু প্রার্থী। ইরানের বাবা ইব্রাহিম সরদার কাতার প্রবাসী এবং মা একজন গৃহিণী।

উদীয়মান ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরান সরদার জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বয়ংসম্পূর্ণ রোবট ‘রিবা’। এর মেমোরীতে তথ্য ভান্ডার ভরে দেয়ায় সাধারণ প্রশ্নের উত্ত দেয়ার সাথে ‘রিবা’ মানুষের মতো আচরণ করতে পারে। ‘রিবা’ দেশের রাস্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামসহ যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। ‘রিবা’র সামনে অপরিচিত কোন লোক গেলে ‘রিবা’ কাকে অটোমেটিক সালাম দিয়ে তার সঙ্গে হ্যান্ডসেক করতে পারে।

তাঁর উদ্ভাবিত রোবট ‘রিবা’ মানুষের মতো চোখের পলক ফেলতে পারে। বাংলা, ইংরেজি আরো বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারে। কথা বলার সময় ‘রিবা’ মুখ নরাচড়া করে এবং মাথা ঘুরিয়ে সবাইকে দেখতেও পারে। পরিবেশ বান্ধব রোবট “রিবা’ সূর্যের আলো থেকে নিজের ব্যাটারি চার্জ করে নিতে পারে। ফলে এই রোবটটি ব্যবহার করতে নতুন কোন খরচ হয় না।

‘রিবা’ উদ্ভাবক ইরান আরও জানায়- ছোটবেলায় রোবট দেখে নিজে মনে মনে রোবট বানানোর ইচ্ছা থেকে সে আজকের এই রেবাট ‘রিবা’ তৈরি করেছে।

স্কুল জীবনে টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এবং পরিবার থেকে সহায়তা নিয়ে রোবট তৈরির কাজ শুরু করে। প্রায় এক বছর কাজের ফসল হিসেবে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে আজকের এই সফল রোবর ‘রিবা’।

স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলায় ইরান এর তৈরী উদ্ভাবিত রোবট ‘রিবা’ সকলকে তাক লাগিয়েছে। সরকারী, বে-সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে আরও উন্নত মানের নতুন নতুন ডিভাইস তৈরি করে মানব কল্যানে উপহার দিতে সক্ষম বলেও ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরান সরদার।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
লেখক / প্রতিবেদক

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।