অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না শিক্ষকরা

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে শিক্ষকেরা কোনো আলোচনায় বসবেন না। শিক্ষক সমিতি জোট বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন। শিক্ষকেরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ না নিলে তারা আন্দোলন থেকে এক ইঞ্চিও সরে আসবেন না। গতকাল বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় এই সংবাদ সম্মেলন। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল আবারও পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকেরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো ক্লাস হচ্ছে না। কর্মবিরতি চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। আলাদা বেতনস্কেল ও বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে তাদের এই কর্মসূচি। ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকেরা কোনো আলোচনায় বসবেন না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি উদ্যোগ না নিলে আলোচনা শুরু হবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ‘পাবলিকলি’ শুনতে চাই। নইলে আন্দোলন থেকে এক ইঞ্চিও সরব না।” আলোচনায় অর্থমন্ত্রী থাকলে শিক্ষকেরা ন্যায়বিচার ও সুবিচার পাবেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রীকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফেডারেশনের মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, “আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে বয়স্ক অর্থমন্ত্রী দেশের উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করা এবং শিক্ষাঙ্গনকে অশান্ত করার নীলনকশা বাস্তবায়নে নেমেছেন। আমাদের প্রশ্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সাবেক আমলা ও বর্তমান আমলা পক্ষের একজন অর্থমন্ত্রী হয়ে তার পক্ষে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংবলিত বক্তব্য দেওয়া কী শোভা পায়? উচ্চ শিক্ষাবিরোধী মনোভাবের পরিচয় দিয়ে অথবা উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করে তিনি কার স্বার্থ হাসিল করতে চাইছেন? মাকসুদ কামাল আরও বলেন, তারা জেনেছেন, বেতন বৈষম্য বিষয়ক যে কমিটি হয়েছে স্বয়ং অর্থমন্ত্রী তার প্রধান। তিনি বলেন, “শিক্ষকেরা পরিষ্কার করে বলতে চান, এর মধ্যে যিনি শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন এবং শিক্ষকদের ব্যাপারে প্রতিহিংসাপরায়ণ বক্তব্য দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন সেই ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন কোনো কমিটি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে ফেডারেশনের মহাসচিব আরও বলেন, বাস্তবমুখী ও গঠনমূলক পদক্ষেপ না নিলে ঈদের পরে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ ছাড়া আগামি ১৭ সেপ্টেম্বরও শিক্ষকেরা পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি পালন করবেন বলে জানান তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।