৫০ হাজার বছর পর বিশ্ববাসী দেখবে এক বিরল ধূমকেতু

৫০ হাজার বছর পর বিশ্ববাসী দেখবে এক বিরল ধূমকেতু

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে একটি ধূমকেতু। এটি ৫০ হাজার বছরে একবার পৃথিবী ও সূর্যের কাছাকাছি আসে। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে খালি চোখেই ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক জুইকি ট্রানজিয়েন্ট ফ্যাসিলিটির নাম অনুসারে, ধূমকেতুটির নাম রাখা হয়েছে সি/২০২২ ই৩ (জেডটিএফ)। গত বছরের মার্চে বৃহস্পতি গ্রহকে অতিক্রম করার সময় ধূমকেতুটি প্রথম শনাক্ত করে জুইকি ট্রানজিয়েন্ট ফ্যাসিলিটি। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১২ জানুয়ারি এটি সূর্যকে অতিক্রম করবে।

১ ফেব্রুয়ারির পর ১০ ফেব্রুয়ারি ধূমকেতুটি যখন মঙ্গল গ্রহ অতিক্রম করবে, তখনো এটি দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ধূমকেতুটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি দূরত্বে থাকবে। তখন বাইনোকুলারের সাহায্যে বা খালি চোখেই রাতের আকাশে এটি দেখা যাবে। তবে ওই সময়ে পূর্ণিমা থাকলে আলোর আধিক্যে ধূমকেতুটি দেখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক থমাস প্রিন্স বলেন, ‘ধূমকেতুটি পৃথিবীর কাছে আসার দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে এটির গঠন জানা সহজ হবে। এ ছাড়া এটি আমাদের সৌরজগৎ ও এর বাইরের গ্রহ সম্পর্কেও তথ্য দিতে পারে।’

২১ ও ২২ জানুয়ারি এটিকে দেখার সবচেয়ে ভালো সময় হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্যারিস অবজারভেটরির জ্যোতিপদার্থবিদ নিকোলাস বিভার। ধূমকেতুটি উর্ট ক্লাউড নামের একটি এলাকা থেকে এসেছে। উর্ট ক্লাউড মূলত সৌরজগতের চারপাশে বিশাল গোলক, যেখানে রহস্যময় বরফের বস্তুর অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর আগে সর্বশেষ এই ধূমকেতু যখন পৃথিবীকে অতিক্রম করেছিল, তখন পৃথিবীতে নিয়ানডারথলদের বিচরণ ছিল।

ফ্রান্সের জ্যোতিপদার্থবিদ নিকোলাস বিভার বলেছেন, ‘এই ধূমকেতু এবার পৃথিবীকে অতিক্রমের পর পুরোপুরি সৌরজগতের বাইরে চলে যাবে। এই ধূমকেতুর গঠন নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এ জন্য নাসার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটিকেও কাজে লাগানো হচ্ছে।’

জ্যোতির্পদার্থবিদ নিকোলাস বিভার আরও বলেন, ‘ধূমকেতুটি বরফ ও ধূলিকণায় গঠিত। এটি পেছনে সবুজ আভা ছেড়ে যায়। ধূমকেতুটির ব্যাস প্রায় এক কিলোমিটার হতে পারে। এর আগে ২০২০ সালে খালি চোখে দেখা যাওয়া নিউওয়াইজ নামের ধূমকেতুটির চেয়ে এটি অনেক ছোট।

এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে হেলি-বপ নামের যে ধূমকেতুটি পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়েছিল, সেটির ব্যাস ছিল ৬০ কিলোমিটার। তবে এবারের ধূমকেতুটির বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি পৃথিবীর অনেক কাছ দিয়ে যাবে। এটি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিতে পারে। তবে আকারে ছোট হলেও এই ধূমকেতুটি পৃথিবীর অনেক কাছে আসবে বলে সেটিকে খালি চোখে দেখা যাবে।’

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
সংবাদ প্রতিনিধি

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।