বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ছিলেন শেখ জামাল হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। দুঃখজনক হলেও সত্য আজও তারা আস্ফালন করে। বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
আজ শুক্রবার (২৮এপ্রিল) শেখ জামালের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একজন মেধাবী তরুণ বঙ্গবন্ধু তনয় শেখ জামালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। একজন সম্ভাবনাময় তরুণ, যিনি দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতেন। দেশ গঠনে অবদান রাখতে পারতেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে।
শেখ জামালের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তিনি বলেন, আজকে শহীদ শেখ জামালের শুভ জন্মদিন। জন্মদিনে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
শেখ জামাল ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ছিলেন সংস্কৃতিপ্রেমী এবং একজন ক্রীড়াবিদ।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শেখ জামালও গৃহবন্দি ছিলেন। সেখান থেকে পালিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট ব্যাটালিয়ন ডিউটি অফিসার হিসেবে ক্যান্টনমেন্টে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওইদিন রাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফিরে আসেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে। পরদিন ১৫ আগস্ট কালো রাতে ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শহীদ শেখ জামাল ১৯৭১ সালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলের সঙ্গে পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিল। সেই বন্দীদশা থেকে তিনি পালিয়ে গিয়ে, পায়ে হেঁটে নানা ভাবে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে, আগরতলায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে শেখ জামাল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি সেকেন্ড ল্যাফটেন্যান্ট হয়েছিলেন। বিশ্ব বিখ্যাত সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ব্রিটেনের সেনার্স থেকে তিনি প্রশিক্ষণ নেন। তিনি একজন মেধাবী তরুণ ছিলেন। একইসঙ্গে সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলেন, সংস্কৃতি চর্চা করতেন। খেলাধুলার প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল।





