সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে: শরীয়তপুরে অটোবাইক শ্রমিক ও আন্তঃ জেলা বাস চালক শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে শতাধিক অটোবাইক সহ প্রায় ১০টি বাস ভাংচুর করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শরীয়তপুর শহরের সব রাস্তায় অটোবাইক দেখে যায়নাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। ঘটনার পর জেলা বাস মালিক সমিতি কার্যালয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের উপস্থিতিতে জরুরী মিটিং ডাকা হয়।
শ্রমিক ইউনিয়নের থেকে পাওয়া সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার মনোহর বাজার মোড় এলাকায় আটোবাইক শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় কালে রাস্তার মাঝে অটোবাইক থামিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন বাস শ্রমিক তার প্রতিবাদ করায় অটোবাইক চালকগণ বাস শ্রমিককে মারধর করে। এ সংবাদ আন্তঃ জেলা শ্রমিক ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়লে যখন যেখানে যে অটোবাইক পাওয়া যায় তাহা ভাঙ্গচুর সহ চালকদের মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুশিল ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে মা-বাবার দোয়া বাসের কন্ডাকটর শহীদুল গুরুতর আহত হয়েছে।
হঠাৎ করে অটোশ্রমিক ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সংঘর্ষে পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে যাত্রী সাধারণ। দুপুর থেকেই সাধারণ যাত্রীদের পায়ে হেটে গন্তব্যে পৌঁছতে দেখা গেছে। তখন যাত্রীরা বলে, শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রায়ই বিবাদ করে আর যাত্রীদের হয়রাণী করে। এর একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার। তা না হলে সারা বছরই সাধারণ যাত্রীরা হয়রাণী হবে।
শরীয়তপুর আন্তঃ জেলা অটোরিক্সা, অটোট্যাম্পু, অটোবাইক ও ডিজেল ট্যাম্পু মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মাঝি বলেন, মনোহর বাজার মোড়ে গাড়ি পাকিং নিয়ে অটো সুপারভাইজ ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে জেলার সকল স্থানে প্রায় ৩ শতাধিক অটোবাইক ভাংচুর করেছে বাস শ্রমিকরা। আমার শ্রমিকদেরও মারধর করেছে। বাস শ্রমিকের পক্ষে সহ-সভাপতি মোক্তার ভাই এসে সমাধানের আহবান জানায়। আপতত অটোবাইক চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আন্তঃ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি ফারুক চৌকিদার বলেন, মনোহর বাজার মোড়ে অটো শ্রমিকরা আমার শ্রমিকদের মারধর করে। শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে ৭/৮টি বাস ভাংচুর করেছে। তাই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা জরুরী মিটিং ডেকেছি। কখন থেকে বাস চলাচল শুরু হবে তা মিটিং থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের দু-গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কি পরিমান গাড়ি ক্ষতি হয়েছে তা জানতে পারেননি। কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ করে নাই।





