তাহেরা রহমান : আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদে এটাই শেষ ঈদ। কয়েক মাস পরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ধর্মীয় এ উৎসব কেন্দ্র করে জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মী এমপি মন্ত্রীরা। বেশির ভাগ এমপি মন্ত্রীরা ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন নিজ নিজ এলাকায় এবং বেশী সময় ধরে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানও করছেন তাঁরা।
জানা গেছে, এবারে নওগাঁ পুলিশ লাইন্স ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮ টায় ঈদুল আয্হার ঈদের নামাজ আদায় করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহা: ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক এমপি। ওই মাঠে জেলা ও দায়রা জজ এ.কে.এম. শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ আদায় শেষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহা: ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক এমপি সাধারণ জনগনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
আর নওগাঁর কেন্দ্রীয় নওযোয়ান ঈদগাঁহ মাঠে নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, নওগাঁ পৌর মেয়র নজমুল হক সনি, প্রয়াত নেত আব্দুল জলিলের পুত্র নিজাম উদ্দিন জলিল জনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঈদের নামাজ আদায় করেন।
গতানুগতিক ধারায় অনেক রাজনৈতিক নেতা, এম.পি ও মন্ত্রী ঈদ উৎসব উদযাপন করেন ধূমধামের মধ্যদিয়ে, পরিবার পরিবজনকে নিয়ে। অনেক সময় খোজ রাখতে পারেন না জনগন ও নেতাকর্মীদের। সে দিক থেকে ব্যতিক্রমি বিপরীত মূখী ঈদ উদযাপন করেছেন আওয়ামীলীগ দলীয় ৫১-নওগাঁ ০৬ (আত্রাই-রাণীনগর)আসনের এমপি ও দেশের প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ইসরাফিল আলম ।
সূত্র মতে, এবারে তিনি ভীষন কর্মব্যাস্ত ও এক চ্যালেজিং ঈদ উদাপন করেছেন এলাকার জনগন ও দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে। ঈদের আগের দিন নেতকর্মীদের দিয়েছেন ঈদ বোনাস/ঈদ বকশিশ আর গরীব দুখী মানুষদের দিয়েছেন অর্থ সাহায্য ।
ঈদের দিন নেতাকর্মী ও জনগনকে আপ্যায়নের জন্য জবাহ করেন ৪টি গরু ৪টি খাসি ও ৩টি ভেরার খাসি আর এক ডজন মোরগ। ঈদের দিন সকালে তিনি পাশের গ্রামের বড় ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করেতে যান। সেখানে বড় বোন জাহানারা খাতুনের ইন্তেকালের দুঃসংবাদে বাড়ীতে গিয়ে ২টি গরু, খাসি, ভেড়া কোরবানীর ব্যবস্থা ও বাবুর্চি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করে ভাই বোন-ভাতিজাদের নিয়ে চলে যান বড় বোনকে শেষ দেখা দেখতে।
ফিরে এসে বিকেল থেকে নেতাকর্মীদের সাদা ভাত ও মাংস দিয়ে আপ্যায়ন শুরু এবং তা চলে রাত ১০.৩০মি পর্যন্ত। হাজার নেতাকর্মীর ও গ্রামের ছোট বড়দের সরব উপস্থিতি এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ইসরাফিল আলম এমপির উদ্যোগে ঈদের পরের দিন ২টি গরু ও খাসী, ভেড়া জবাই করে রাণীনগর উপজেলা চত্ত্বরে নেতাককর্মীদের জন্য নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয় যেখানে ধর্ম বর্ণ দলমত সকল শ্রেণি পেশার মানুষেরা অংশ গ্রহন করেন।।
রাণীনগর-আত্রাই এবং নওগাঁর আওয়ামীলীগ দলের নেতাকর্মীদের হাস্যজ্জল ও আনন্দমূখর উপস্থিতি মানুষের হৃদয়কে সত্যিই আলোড়িত করে। এমপি ইসরাফিল সবাইকে বিদায় দিয়ে বাসায় এসে ঘুমান রাত ১টায়।
এ বিষয়ে উপস্থিত কয়েকজন জানান, ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। কোরবানি ঈদের প্রকৃত সত্যটি অনুধাবন করে সমতার জায়গা নির্মাণের কথা ভাবলে ইসরাফিল আলমকে শুধু একজন এমপি হিসাবে নয়, একজন মানবতাবাদী সার্বজনীন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার তুলনা খুঁজে পাওয়া কঠিন, তিনি অদ্বিতীয়। একই সঙ্গে অতুলনীয়।
এটায় ইসরাফিল আলম, একজন মাঠকর্মী থেকে একজন ব্যতিক্রমী জননেতা, মাটির ও মানুষের নেতা।





