শাবি ক্যাম্পাস মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য, নির্বিকার প্রশাসন

শাফী চৌধুরী : মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হতে চলেছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র অঙ্গন।বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর না থাকা ,অনিয়ন্ত্রিত মাদক ব্যবসা ,ক্যাম্পাসে বহিরাগতদরে প্রবেশে কোন বিধিনিষেধ না থাকায় এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে।তাছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের কিছু রুম সহ কয়েকটি স্পট এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিনত হয়েছে। শাবিতে মাদকের বিরুদ্ধে কয়েকটি প্রতিবাদী সংঘটন থাকা সত্ত্বেও আজ তারা রহস্যজনক কারনে নীরব ভুমিকা পালন করছে। অভিযোগ উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারী দলের ছাত্র সংঘঠনের নেতা কর্মীরা এসব মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে আলাপকালে জানাযায়,প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে পাল্টে ক্যাম্পাসের কিছু স্থানের চেহারা।কয়েকজনের আড্ডা আর কালো ধোঁয়ায় ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি হয় ঐ সব স্থানে।সন্ধ্যা হতে মধ্যরাত পর্যন্ত ঐসব স্থান থাকে সূশ্লিষ্টদের দখলে।সংশ্লিষ্টরা ছাড়া আর কেউ যেতে পারে না ঐসব স্থানে।রাত যত গভীর হয় পাল্টে যেতে থাকে সে সব স্থানের দৃশ্য।ছোট ছোট ঔষধের বোতল সহ হাজির হন লোকজন।তাদের মধ্যে থেকে দেখা যায় আবার কেউ কেউ পুটলি থেকে সাদা দ্রব্য বের করে আর এভাবে জমে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাতের নীল নেশার আড্ডা।

মাদক দ্রব্যের গ্রাস এখন শাহজালাল বশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মাঝে।ক্যাম্পাসে এসব আসর বসে রেজিষ্ট্রার ভবনের পিছনে ,শিক্ষা ভবন এ এর পিছনে ,শহীদ মিনারে,আইসিটি ভবনের পাশে ওছাত্রী হলের পিছনে ও বিশ্ববিদ্যারয়ের বিভিন্ন টিলার গর্তে । তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয় শহীদ মিনারের পিছনে। কোনে ধরনের সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা এ দিকে না থাকার কারনে প¦ার্শবর্তী এলাকার মাদকসেবীদেও কাছে এটি হয়ে উঠেছে নিরাপদ আস্থানা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মাদকসেবী জানান,বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী টুকেরবাজার ও আখালিয়ার নয়া বাজার এলাকায় কম মূল্যে মদ পাওযা যায়।এ সব জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদক সেবীরা মাদক দ্রব্য নিয়ে আসেন। তাছাড়াও পুলিশী হয়রানীর ভয় কম থাকার কারনে পার্শ্ববর্তী এলাকার ও শহরের মাদকসেবীরা মাদক সাথে নিয়ে এসে এখানে সেবন করে থাকেন।আর বহিরাগতদের শেল্টার দিয়ে  থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় কয়েকজন ছাত্রনেতা।

বিশ্বদ্যিালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের রাব্বী নামের এক ছাত্র জানান, শাবিতে মাদকের ব্যবহার এখন অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন ভযাবহ। বিগত বছর গুলোতে প্রশাষনের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্জন স্থান সমূহ মনিটরিং করা হতকিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তকোন্দলের কারনে আর মনিটরিং হয় ন। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, সন্ধ্যার পর শহীদ মিনারে ঘুরতে যাওয়া যায় না । সন্ধ্যার পর ঐ এলাকায় গেলে নিশ্চিত ছিনতাই অথবা মাদকসেবীদের লাঞ্চনার শিকার হতে হয়।তাছাড়াও সন্ধ্যার পর হতে মোটর সাইকেলযোগে বহিরাগতদেও আসা-যাওয়া বেড়ে যায়।

প্রশাসনিক সুত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় রাতের বেলা ক্যাম্পাসে সতন্ত্র নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে  না।তবে পুলিশী টহল জোরদার করা আছে। তবে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।