রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় রশির দাগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ডাকাতির পর হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ ও প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুষ। গণপতি চক্রবর্তী পরিবার নিয়ে ওই বাড়ির দোতলায় বসবাস করতেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে স্বজনরা বাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরে দোতলার সিঁড়ির কাছ থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্য একটি কক্ষের খাটের নিচে পাওয়া যায় ছোট ছেলে আয়ুষের মরদেহ।
স্বজনরা জানান, আগের দিন পরিবারের সদস্যদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর বাড়িতে এসে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বাড়িতে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ দেখতে পান তারা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
রংপুর সিআইডির ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী বলেন, বাড়ির ভেতরের পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হয়েছে। তবে তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের গলায় রশির দাগসহ শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডাকাতির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসরে যান। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন। আর ছেলে আয়ুষ রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।




