ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস আজ, লালকেল্লায় প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম’

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস আজ, লালকেল্লায় প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম’
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস

নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট ২০২৬: দেশাত্মবোধের আবহে আজ শনিবার ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় আয়োজিত হবে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। দিবসটি ঘিরে লালকেল্লাসহ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

এবারের স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরের ঐতিহ্য এবং তরুণ প্রজন্মের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্য। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের মূল আয়োজনে এবারই প্রথম ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে।

লালকেল্লায় যেভাবে শুরু হবে অনুষ্ঠান

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লালকেল্লায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানাবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ এবং প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং।

এরপর দিল্লি এলাকার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ শেঠি প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুটিং বেসে নিয়ে যাবেন। সেখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও দিল্লি পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত গার্ড প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন জানাবে।

প্রধানমন্ত্রীর গার্ড অব অনারে চার বাহিনী ও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে একজন করে কর্মকর্তা এবং ২৪ জন করে সদস্য থাকবেন।

আরও পড়ুনঃ ১৫ আগস্ট: শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সেই দিন

পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে ২১ বার তোপধ্বনি

গার্ড অব অনার পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লার প্রাচীরে যাবেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। একই সময়ে ১৭২১ ফিল্ড ব্যাটারি থেকে ২১ বার আনুষ্ঠানিক তোপধ্বনি দেওয়া হবে।

এ জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০৫ মিলিমিটার লাইট ফিল্ড গান ব্যবহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রীকে পতাকা উত্তোলনে সহায়তা করবেন ক্যাপ্টেন সোনিয়া সিং চৌহান।

প্রথমবার লালকেল্লার অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’

এবারের আয়োজনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন ‘বন্দে মাতরম’। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর রাষ্ট্রীয় স্যালুট দেওয়া হবে। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যান্ড ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর পরিবেশন করবে এবং উপস্থিত সবাই জাতীয় গানটি গাইবেন। এরপর পরিবেশিত হবে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে এই জাতীয় গানের ১৫০ বছর পূর্তিও উদযাপন করছে ভারত।

হেলিকপ্টার থেকে ফুলের পাপড়ি বর্ষণ

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার লালকেল্লার অনুষ্ঠানস্থলে ফুলের পাপড়ি বর্ষণ করবে। একটি হেলিকপ্টারে থাকবে জাতীয় পতাকা এবং অন্যটিতে থাকবে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা পতাকা।

এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

২,৫০০ এনসিসি ক্যাডেট ও ‘মাই ভারত’ স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণ

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (NCC) এবং ‘মাই ভারত’-এর প্রায় ২,৫০০ তরুণ-তরুণী ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করবেন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হবে।

লালকেল্লার বিপরীতে জ্ঞানপথে তাঁদের এমনভাবে বসানো হবে, যাতে ওপর থেকে দেখলে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা ফুটে ওঠে। আয়োজনের নকশায় ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’-এর ভাবনাও তুলে ধরা হবে।

লালকেল্লায় প্রায় ৫ হাজার বিশেষ অতিথি

এবারের স্বাধীনতা দিবসের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৫ হাজার বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ উদ্ভাবক, সফল উদ্যোক্তা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী, ‘মাই ভারত’-এর স্বেচ্ছাসেবী, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপকারভোগী, শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিরা।

সরকারের ঘোষিত তালিকায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের স্বেচ্ছাসেবী, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার নারী উদ্যোক্তা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপকারভোগী এবং প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘরসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সফল অংশগ্রহণকারীদেরও রাখা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন

লালকেল্লার কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও শহরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশাত্মবোধক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে ৩৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সামরিক ও বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যান্ডের বিশেষ পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানের অনেকগুলোই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

এবারের স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনে তাই একই সঙ্গে উঠে আসছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্য, ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরের ইতিহাস এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।