বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে থাই বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি, রয়্যাল থাই দূতাবাসের কর্মকর্তারা, অংশগ্রহণকারী থাই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান, বিশাল ভোক্তা বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা দেশটিকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া শিল্প, তৈরি পোশাক, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, রাবার পণ্যসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে থাই বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়।
তিনি আরও বলেন, থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী শুধু পণ্য প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি উৎপাদক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম।
তিনি বলেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন যোগাযোগ তৈরি করবে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি দায়িত্বশীল বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী থাই কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের থাইল্যান্ডের বাজারে দেশীয় পণ্যের নতুন রপ্তানি সুযোগ খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করবে।
উল্লেখ্য, রয়্যাল থাই সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল থাই দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিষয়ক কার্যালয়ের সহযোগিতায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে থাইল্যান্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।