ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের জন্য পুতিনকে দায়ী করে আইসিসির একজন বিচারক এই আদেশ দেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা আইসিসির নেই। আর এই আদালতের আদেশ কেবল সেসব দেশের জন্যই খাটে, যারা এই আন্তর্জাতিক আদালত গঠনের জন্য চুক্তি ‘রোম সংবিধিতে’ সই করেছিল।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “আমাদের দেশের জন্য আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের ওই আদেশে অর্থহীন, এমনকি আইনি দৃষ্টিকোন থেকেও ওই আদেশ কোনো অর্থ বহন করে না। রাশিয়া রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতেরও অংশীদার নয়। ফলে ওই আদালতের আদেশ মানার কোনো দায়ও আমাদের নেই।”
নেদারল্যান্ডের হেগ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালত শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, “জোরপূর্বক ইউক্রনের নাগরিকদের (শিশুদের) নিয়ে যাওয়া এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের অঞ্চলগুলো থেকে জোরপূর্বক নাগরিকদের (শিশুদের) রাশিয়ার নিয়ে যাওয়ার মতো যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে পুতিনের বিরুদ্ধে।” পুতিন ছাড়াও রাশিয়ার শিশু অধিকার কমিশনার মারিয়া আলেক্সেইভনা লোভা-বেলোভার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ব্যাপক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করে আসছে ইউক্রেইন ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা। তবে মস্কো বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আইসিসির ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল আন্দ্রেই কস্তিন বলেছেন, “এটা কেবল ইউক্রেনের জন্য নয়, পুরো আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর জন্যই একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।” অন্যদিকে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এর মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক দায়িত্বের সূচনা ঘটবে।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এই প্রক্রিয়াকে ‘যৌক্তিক’ বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক দূত জোসেপ বোরেল বলেন, “এই পরোয়ানা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিদের জন্য সংকট তৈরি করবে। তিনি কোনো দেশ ভ্রমণ করলে গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। এই ঝুঁকি থেকে তিনি রেহাই পাবেন না।”
পোল্যান্ড সরকারের মুখপাত্র পিয়র মুলার বলেন, “এটা আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ইউক্রেনে বর্বর হামলার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, এটা তাদের প্রতি বার্তা।”
চেক প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিপাভস্কি বলেন, “পুতিন নিঃসন্দেহে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী। তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।”





