টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দী দুই শতাধিক মানুষ

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দী দুই শতাধিক মানুষ
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দী দুই শতাধিক মানুষ
টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর সাবদী মাঝির খালপাড় এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত ৫০টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের উপযোগী রাস্তা ও কালভার্ট না থাকায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রয়েছে খাল, পূর্ব পাশে বিল এবং উত্তরে বিশাল বাগিচা। চারদিকের এমন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বর্ষা এলেই পানি জমে যায় পুরো এলাকায়। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক মাস ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাসিন্দাদের।
এলাকায় নেই চলাচলের উপযোগী কোনো রাস্তা, নেই একটি কালভার্টও। ফলে বর্ষা মৌসুমে হাট-বাজারে যাওয়া, মসজিদে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও স্থানীয়দের ভোগান্তির শেষ থাকে না। বাগান ও ক্ষেতের আল দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষার প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস রাস্তা পানিতে তলিয়ে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। এতে তাদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসানা মীম তানহা বলেন, বর্ষা এলে তারা মাদ্রাসায় যেতে পারেন না। রাস্তা না থাকায় বাগান কিংবা ক্ষেতের আল দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদেরও চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে পানি ও কাদাময় পথ পেরিয়ে মূল সড়কে যেতে হয় স্থানীয়দের।
উপকূল নারী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নিশু আক্তার বলেন, মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার অভাবে স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় দুই শতাধিক মানুষের দুর্ভোগও সীমাহীন। দ্রুত রাস্তা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন, মো. হারুন, ইসমাইল, কামরুজ্জামান কাজল ও মাসুদ রানাসহ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, দক্ষিণ মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাবদী মাঝির দিঘির পাড় পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা ও একটি কালভার্টের অভাবে বর্ষায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রাস্তা না থাকায় ভোটারসহ সাধারণ মানুষেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
দক্ষিণ মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হাবীবা সুলতানা বলেন, বর্ষা এলে ওই এলাকায় পানি জমে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারে না। এতে দিন দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য সাংবাদিক আবীর আকাশের আমন্ত্রণে তিনি ওই এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন। রাস্তা নির্মাণের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্ষা শেষে কাজ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথুয়াইপ্রু মারমা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। রাস্তার প্রয়োজন হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত আধা কিলোমিটার রাস্তা ও একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।