ক্ষত-বিক্ষত কালীগঞ্জের চিত্রা শতাধিক স্থানে বাঁধ দিয়ে অবাধে চলছে মাছ ধরা

আরিফ মোল্ল্যা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চিত্রা নদীর শতাধিক স্থানে বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ডিময়ালা মাছ ধরা হচ্ছে। এলাকার একাধিক ব্যক্তি নদীর মাঝে বাসের চরাট বসিয়ে ও মশারি দিয়ে বাঁধ সৃষ্টি করে অবাধে প্রতিদিন মাছ ধরছে। এতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে নদীর স্রোত, মারা যাচেছ রেনু পোনা আর মাছের প্রজনন সমস্যা হচ্ছে দারুনভাবে। চিত্রার শতাধিক স্থানে অবাধে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা হলেও দেখার কেউ নেই।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা জানান, সাধারণ আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে নদীতে যখন পানি বেশি হয় সে সময় মাছে ডিম ছাড়ে। আর ডিম ছাড়ার জন্য প্রয়োজন হয় স্রোতের । কিন্তু নদীতে যদি বাঁধ দেয়া হয় তাহলে মাছের প্রজনন সমস্যা হয়, রেনু পোনা মারা যায়। আর যদি স্রোত বাধাগ্রস্থ হয় তাহলে মাছের বেড়ে উঠাও সম্ভব হয় না।  তিনি আরো জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ।

উপজেলার শালিখা, মস্তবাপুর, ফরাসপুর, বারইপাড়া, সিংগী, গোমরাইল, নগর চাপরাইল, একতারপুর, বনখির্দ্দা, ইছাখালীসহ একাধিক নদীকুলবর্তী গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে, যে যার মত পারছে, সে সেই ভাবে নদীর মধ্যে বাঁধ দিয়ে ডিময়ালা মাছ ধরছে।

এসব গ্রামের শতাধিক স্থানে নদীর এপার থেকে ওপার পর্যন্ত বাঁশের চরাট ও জাল দিয়ে বাঁধ দেয়া হয়েছে। এতে নদীর স্রোত বাধাগ্রস্থসহ মাছের অবাধ চলাফেরার সুযোগ থাকছে না। ডিম ছাড়তে পারছে না মা মাছ। মরে যাচ্ছে রেণু পোনা।

অবৈধভাবে নদীতে বাঁধ দিয়ে যারা প্রতিনিয়ত মাছ ধরছে তারা হলো, শালিখা গ্রামের আশরাফুল, সিংগী গ্রামের সেলিম ও রাজকুমার, বারইপাড়া গ্রামের বুল্লা ও বাবলু, মস্তবাপুর গ্রামের শফি ম-ল, গোমরাইল গ্রামের গোপাল, একতারপুর গ্রামে বিষ্ঠ মালো, নগর চাপরাইল গ্রামের সোনাতন কুমার বিশ্বাস, অশোক মালো ও সন্নাসী, ফারাসপুর গ্রামের দাউদ হোসেন। এসব ব্যক্তিরা নদীর এপার থেকে শুরু করে ওপার পর্যন্ত বাঁধ দিয়ে অবাধে ডিওয়ালা মাছ ধরছে।

এলাকার একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশে না করার শর্তে জানান, গত বছর ভ্রাম্যমান আদালত সোনাতন মালোকে ১ হাজার ও বারই পাড়া গ্রামের বুল্লাকে ১৫শ টাকা জরিমানা করে। অথচ জরিমানা দেয়ার কয়েকদিন পর থেকে তারা একই কাজ করে আসছে।

চাপরাইল গ্রামের নাজমূল ইসলাম আরেক ব্যক্তি জানান, প্রতিবছর অনেক লোক নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরে। কিন্তু তাদের কিছুই হয়না। এদের জন্য শক্ত আইন দরকার।

বনখির্দ্দা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস জানান, বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১/২ হাজার টাকা জরিমানা করে কোন লাভ নেই। এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা জানান, আমি এখানে নতুন এসেছি। আপানারা  আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তায় করলে ইউএনও স্যারকে সাথে নিয়ে মোবাইল কোর্ট করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, গত বছর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময় বেশকয়েকটি বাঁধও উচ্ছেদ করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।