রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাদের ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
এর আগে রোববার রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রংপুর কারাগার থেকে দুই আসামিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়।
উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, চারজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে এখন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
তিনি বলেন, আসামিদের নমুনার সঙ্গে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের সদস্যদের নমুনা এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা অন্যান্য আলামত মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে আসামিদের উপস্থিতি কিংবা কোনো আলামতের সঙ্গে তাদের জৈবিক সম্পর্ক ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।
সিআইডি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত পরিবারের মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন পর তিন ধাপে এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
সংগ্রহ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ফল কাটার ছুরি, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, নানরুটি, শসা ও খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশু প্রিয়মের খাতায় পাওয়া একটি লেখা।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ছাড়া গত ১ ও ২ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা জেলগেটে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে পৃথকভাবে তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ঘটনায় আসামিদের বন্ধু সীমান্ত দাস, দখিগঞ্জ শ্মশানের পাহারাদার বিদ্যুৎ মোহন্ত এবং মাদক সরবরাহকারী শান্ত দাস ওরফে পুঁটি শান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আলোচিত মামলাটি বর্তমানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।





