পাইকগাছায় ১৫১টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা; চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

পাইকগাছায় ১৫১টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা; চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
পাইকগাছায় ১৫১ মন্দিরে দুর্গাপূজা

মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার দেবীপক্ষ ও পুণ্যলগ্নের ক্ষণগণনা। শিশির ভেজা ভোর আর শরতের শুভ্র কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গা পূজার আগমনী বার্তা।

‎খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ১৫১ টি পুজা মন্দির বা মণ্ডবে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব ঘিরে পাইকগাছায় প্রতিমা তৈরিতে কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলে হয়ে উঠছে অপরূপ। এখন খড় আর কাদা মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমায় রঙ্গের কাজ চলছে। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে প্যাণ্ডেল, তোরণ,আলোকসজ্জা ও মন্দিরগুলোতে সাজসজ্জার প্রস্তুতি চলছে।

‎পাইকগাছার বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। ভাস্কার বা কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা। কোন কোন মন্দিরে মাটির কাজ শেষ হয়েছে আবার কোন কোন মন্দিরে রঙ্গের কাজ চলছে।

‎প্রকৃতিতে শরতের শুভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। দুর্গা আদ্যাশক্তি, মহামায়া, শিবানী, ভবানী, দশভুজা, সিংহবাহনা ইত্যাদি নামে অভিহিত হন। দুর্গ বা দুর্গম নামক দৈত্যকে বধ করেন বলে তাঁর নাম হয় দুর্গা। জীবের দুর্গতি নাশ করেন বলেও তাঁকে দুর্গা বলা হয়।

ব্রহ্মার বরে পুরুষের অবধ্য মহিষাসুর নামে এক দানব স্বর্গরাজ্য দখল করলে রাজ্যহারা দেবতারা বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। বিষ্ণুর নির্দেশে সকল দেবতার তেজঃপুঞ্জ থেকে যে দেবীর জন্ম হয় তিনিই দুর্গা। দেবতাদের শক্তিতে শক্তিময়ী এবং বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিতা হয়ে এ দেবী যুদ্ধে মহিষাসুরকে বধ করেন। তাই দেবীর এক নাম হয় মহিষমর্দিনী।

‎পাইকগাছা উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় মোট ১৫১টি মন্দিরে সর্বজনীন দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর হতে দুর্গা পূজা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজা শেষ হবে।

জানা গেছে,পাইকগাছা উপজেলায় ১৫১ টি পুজা মন্দির দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।পাইকগাছা পৌরসভায় ৬ টি, হরিঢালী ইউনিয়নে ১৭ টি, কপিলমুনি ইউনিয়নে ১৮ টি, লতা ইউনিয়নে ১২ টি, দেলুটি ইউনিয়নে ১৩টি, সোলাদানা ইউনিয়নে ১২ টি, লস্কর ইউনিয়নে ১৯ টি, গদাইপুর ইউনিয়নে ৭ টি, রাডুলী ইউনিয়নে ২০টি, চাঁদখালী ইউনিয়নে ১৫ টি ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ১২ টি সর্বমোট ১৫১ টি মন্দিরে দুর্গা উৎসব উদযাপিত হবে।

‎বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ পাইকগাছা পৌরসভা শাখার সভাপতি বাবুরাম মণ্ডল জানিয়েছেন, এবছর দুর্গোৎসব সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির, জেলা কমিটি ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে পাইকগাছা উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পুজা উদযাপন পরিষদ পাইকগাছা শাখার আহ্বায়ক প্রাণ কৃষ্ণ দাশ বলেন, প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এবছর দুর্গা পূজা সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয় সে জন্য সরকার ও বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির দিক নির্দেশনা মেনে সংগঠন-এর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা)

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।