শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায়ও প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং প্রতিযোগিতার ১০টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া ক্ষুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন।
এর আগে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহফুজুল আলম খান।
এ সময় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদরা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিশু-কিশোররা। তিনিও মাঠের ভেতর দিয়ে গ্যালারির কাছে গিয়ে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করা।
এবারের প্রতিযোগিতায় আগের আটটি ইভেন্টের পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা।
শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং নতুন প্রজন্মকে ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে গত ২ মে সিলেটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরের উদ্বোধন করা হয়েছিল।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় আসরে সারা দেশ থেকে মোট ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে তাদের প্রশিক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়া পরিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এবার বিশেষভাবে ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।





