অপতথ্য ঠেকাতে সচেতনতার বিকল্প নেই: জাহেদ উর রহমান

অপতথ্য ঠেকাতে সচেতনতার বিকল্প নেই: জাহেদ উর রহমান
অপতথ্য ঠেকাতে সচেতনতার বিকল্প নেই: জাহেদ উর রহমান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে গণমাধ্যম ও তথ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করে অপতথ্যের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়; এ জন্য মানুষকে তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতে হবে।

আজ রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে গ্লোবাল মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি (এমআইএল) উইক ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভুল তথ্য, অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এখন শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও ডিজিটাল তথ্য সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় এ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, অপতথ্য প্রতিরোধে সরকার একটি যৌক্তিক আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেবে। তবে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়স্কদের অসচেতনতার প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, দেশের অনেক শিক্ষিত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিও কোনো খবরের উৎস জানতে চাইলে জানান, সেটি তাঁরা ফেসবুক থেকে পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রস্তুতি ছাড়াই অনেক বয়স্ক মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুরু করেছেন। একই ধরনের পরিস্থিতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দেখা যাচ্ছে।

সত্য গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম’ পঙক্তি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, সত্য জানতে গেলে কখনো কখনো অস্বস্তিকর বাস্তবতাও মেনে নিতে হয়। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এমন অনেক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, যেখানে মানুষ নিজের পছন্দ ও বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে—এমন তথ্যই বেশি পেয়ে থাকে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিটির নিরাপদ ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠান এআইয়ের জন্য নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে কথা বলছে। তবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে বলেও আলোচনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশকে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অপতথ্য মোকাবিলায় শুধু দেশের অভ্যন্তরে কাজ করলেই চলবে না; আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম সঠিক তথ্যের বিস্তারে বাধা তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে তিনি শোশানা জুবফের বইয়ের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, এসব অ্যালগরিদম অনেক সময় মানুষের রাগ, ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহার মতো নেতিবাচক আবেগকে প্রাধান্য দেয়। ফলে নেতিবাচক খবর ও অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তথ্য যাচাই করে নির্ভরযোগ্য খবর প্রচার করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।

উপদেষ্টা বলেন, অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর তা মোকাবিলা করার চেয়ে আগেভাগেই মানুষকে সচেতন করে তোলা বেশি কার্যকর। কোনো তথ্য বিশ্বাস করা কিংবা অন্যের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে সেটির সত্যতা ও উৎসের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণমাধ্যম ও তথ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির এমআইএল সপ্তাহ পালন প্রশংসার দাবি রাখে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েরও এ ধরনের কার্যক্রম চালু করা উচিত।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শুধু নিজেদের সচেতন থাকলেই হবে না; মা-বাবা ও বয়স্ক আত্মীয়স্বজনকেও তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। তাঁদের অসচেতনতা অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আশিক মোসাদ্দিক এবং বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রধান ড. সুজান ভাইজ। অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক দিলারা বেগম।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।