নওগাঁর মান্দা উপজেলার কয়াপাড়া কামারকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতর থেকে অবৈধভাবে ১৮ টি বড় গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কামারকুড়ি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. কাদেরের বিরুদ্ধে। কোনো ধরনের রেজুলেশন বা প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই স্কুলের দখলি জায়গায় থাকা গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন ভেতরের অংশ থেকে ১৮ টি বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গাছের ক্রেতার কাছে গাছ কাটার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, কামারকুড়ি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. কাদেরের কাছ থেকে তিনি গাছগুলো কিনেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কাদেরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এই গাছগুলো স্কুলের নয়। আমরা ঈদগাহ তৈরি করার জন্য যে জায়গা নিয়েছি, গাছগুলো সেই জায়গার মূল মালিকের। আর কয়াপাড়া কামারকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও বিষয়টি জানেন। তিনি বলেছেন গাছগুলো স্কুলের না হলে কাটতে কোনো বাধা নেই।”
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে ঈদগাহের অজুহাত দিয়ে গাছগুলো কাটা হচ্ছে, সেই ঈদগাহের নামে জমি এখনো রেজিস্ট্রি হয়নি এবং জমিদাতাও জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করেননি। এমনকি ঈদগাহ পরিচালনার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো কমিটি কিংবা রেজুলেশনও তৈরি করা হয়নি। কোনো আইনি অনুমোদন ছাড়াই স্বপ্রণোদিত হয়ে গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এদিকে মো. কাদেরের দাবি অস্বীকার করে কয়াপাড়া কামারকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পূর্বে কোনো কথা বলা হয়নি। তিনি স্কুলে এসে গাছ কাটার দৃশ্য দেখতে পান এবং পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে আর্মি কাদেরের নির্দেশে গাছগুলো কাটা হচ্ছে।
গাছের মালিকানা প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, “গাছগুলো স্কুলের পক্ষ থেকে লাগানো না হলেও তৎকালীন সময়ে কামারকুড়ি গ্রামের পাশা নামে ব্যক্তি এগুলো স্কুলের সীমানায় রোপণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আমাদের স্কুলের পিয়ন মোতাহার গাছগুলোর পরিচর্যা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এগুলো স্কুলের দখলি জায়গার ওপরই বড় হচ্ছিল।
আমাকে না জানিয়েই গাছগুলো কাটা শুরু হলে পরে আর্মি কাদের ভাই বলেন তিনি ঈদগাহের কাজের জন্য গাছ কেটে বিক্রি করছেন এবং এতে এলাকাবাসীর অনুমতি রয়েছে।”
এদিকে বিষয়টিকে ঘিরে পুরো এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীদের প্রশ্ন যে ঈদগাহের জন্য এখনো জমি রেজিস্ট্রি হয়নি, কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি এবং জমিদাতাও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি; সেই ঈদগাহের নাম ভাঙিয়ে ও বিদ্যালয়ের দখলি জায়গার গাছ কার নির্দেশে বা কার শক্তিতে কাদের কেটে বিক্রি করলেন?
বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।





