লক্ষ্মীপুরে এক লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় মামলায় প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকার একটি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত দেলোয়ার শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার মৃত ধনু মিয়ার ছেলে।
এরআগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেলোয়ার পেট্রোলের বোতল নিয়ে উত্তর তেমুহনী এলাকার কালী বাজার সড়কে ফুড কেমিক্যাল ব্যবসায়ী শাহেদ আলমের দোকানে ঢুকেন।
একপর্যায়ে শাহেদের পাশে বসে থাকা স্থানীয় ব্যবসায়ী কৃষ্ণ পালের শরীরে পেট্রোল ঢেলে দেলোয়ার আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে একই দৃশ্য দেখা যায়।
ব্যবসায়ী শাহেদ আলমের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন দেলোয়ার পেট্রোলের বোতল নিয়ে তার দোকানে আসেন। এসময় তিনি দোকানের মালামালের ওপর পেট্রোল ছিটিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার পাশে বসে থাকা ব্যবসায়ী কৃষ্ণ পালের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়। এসময় দোকানের কর্মচারী সোহাগ বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়।
আশপাশের লোকজন তাকে (শাহেদ) উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে দেলোয়ার, তার ছোট ভাই শাকিল ও ভাগিনা মুন্না দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহেদ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এতে দেলোয়ারকে প্রধান এবং শাকিল ও মুন্নাকে আসামি করা হয়।
লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। এরপর থেকে বাজারের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। চাঁদা দাবি ও ব্যবসায়ীদের মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান বলেন, ঘটনার পর খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত। ঘটনাটি নিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতেও অভিযান চলছে।



