বান্দরবানে ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ উদ্বোধন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের আহ্বান

বান্দরবানে ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ উদ্বোধন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের আহ্বান
বান্দরবানে ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ উদ্বোধন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের আহ্বান

বান্দরবান শহরের ঐতিহাসিক রাজার মাঠে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’-এর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। পাহাড় ও সমতলের মানুষের সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারের বার্তা নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।

বান্দরবান পৌরসভার উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে রোববার রাতে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি।

অনুষ্ঠানে পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, এমপি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। সব জাতিসত্তা ও জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিই দেশের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম শক্তি। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের মিলনমেলাই বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা কিংবা বসবাসের স্থান কোনোভাবেই মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির কারণ হতে পারে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড় ও সমতলকে একীভূত করে অভিন্ন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনা প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগের কথা স্মরণ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি, সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন এবং সব সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও মাতৃভাষা সংরক্ষণ এবং গবেষণায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের যে প্রান্তেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করুক, তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা, আধুনিক শিক্ষা এবং উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার আন্তরিক।

মন্ত্রী সাচিং প্রু আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সমঅধিকার নিশ্চিত করে সৌহার্দ্য ও সাম্যের ‘রেইনবো নেশন’-এর যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা বাস্তবায়নে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি জানান, ‘রেইনবো নেশন’-এর ধারণা বাস্তবায়ন এবং পাহাড় ও সমতলের মানুষের সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পার্বত্য অঞ্চলে একটি বৃহৎ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’-এর আয়োজনকে সেই উদ্যোগের একটি শুভ সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার (৬৯ পদাতিক ব্রিগেড) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।