ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট

 ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, নির্ধারিত করের অর্থ আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা রিটের রুল খারিজ করে এ রায় দেন। এর ফলে এনবিআরের দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি বাধা আর থাকল না।

পাঁচ করবর্ষের কর নিয়ে বিরোধ

আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের আয়কর বাবদ মোট ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি করে এনবিআর। কর কর্তৃপক্ষের ওই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক রিট করে।

প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই রিটের ওপর রুল জারি করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলে। এনবিআরের পক্ষ থেকেও উচ্চ আদালতে আপিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ মামলাটি merits বা মূল বিষয়বস্তুর ওপর নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দেন।

২০২৪ সালের রায় ও তা প্রত্যাহার

আপিল বিভাগের নির্দেশের পর হাইকোর্টে মামলাটির পুনঃশুনানি হয়। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজ করে দেন। ওই রায়ের ফলে এনবিআরের দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের পথ তৈরি হয়েছিল।

তবে ওই রায় বেশিদিন বহাল থাকেনি। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে রায়টি প্রত্যাহার করে নেন। কারণ, রায় লেখার সময় বেঞ্চের একজন বিচারপতি দেখতে পান যে, তিনি অতীতে ওই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি সামনে আসে। পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় এবং নতুন বেঞ্চে শুনানির পথ তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ কৌশিকী অমাবস্যা: পৌরাণিক ইতিহাস, তারা রাত্রির তাৎপর্য ও তারাপীঠের আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য

২০২৬ সালে আবারও হাইকোর্টের রায়

পরবর্তী সময়ে মামলাটি নতুন করে হাইকোর্টে আসে। চলতি বছরের জুলাইয়ে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছিলেন, ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফ বা মামলা প্রত্যাহারের খবর ভিত্তিহীন; মামলাটি তখনও বিচারাধীন ছিল। তিনি কর বিরোধের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, গ্রামীণফোন থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়েছিল এবং সেই কর পরিশোধের পর আবার অতিরিক্ত কর আরোপ করা যাবে কি না—এ প্রশ্নেই প্রতিষ্ঠানটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট রুল খারিজ করে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবিকে কার্যকর রাখেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই অর্থ তিন অর্থবছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।