আজ কৌশিকী অমাবস্যা। এই দিনে দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব, শুম্ভ-নিশুম্ভ বধের পৌরাণিক গল্প এবং তারাপীঠে সাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের ইতিহাস সম্পর্কে বিশদে জানুন।
সনাতন ধর্ম ও শক্তি উপাসনায় ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিটি অত্যন্ত পবিত্র ও রহস্যময়। এই বিশেষ অমাবস্যাই শাস্ত্র ও পুরাণে কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত। তন্ত্রশাস্ত্রে এই রাতকে বলা হয় ‘তারা রাত্রি’। বিশ্বাস করা হয়, এই রাতে সাধনা ও ঈশ্বর আরাধনা করলে মানুষের অন্তরের সমস্ত নেতিবাচকতা, ভয় এবং অন্ধকার দূর হয়ে সুপ্ত মানসিক শক্তির বিকাশ ঘটে।
দেবী কৌশিকীর উৎপত্তি ও পৌরাণিক ইতিহাস
মার্কণ্ডেয় পুরাণের ‘দেবী মহাত্ম্যম’ অনুযায়ী, প্রাচীনকালে অসুর ভাই শুম্ভ ও নিশুম্ভ ব্রহ্মা দেবের কাছ থেকে বর লাভ করেছিলেন যে, কোনো “অযোনিসম্ভূতা” (যিনি কোনো মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি) নারী ব্যতিকে অন্য কেউ তাঁদের বধ করতে পারবে না।
আরও পড়ুনঃ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট
অসুরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেবতারা জগজ্জননী দেবী পার্বতীর শরণাপন্ন হন। দেবতাদের আকুল প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে দেবী পার্বতীর দেহকোষ (কোষা) থেকে এক তেজস্বিনী পরম রূপবতী দেবীর আবির্ভাব ঘটে। যেহেতু তিনি পার্বতীর দেহকোষ থেকে উৎপন্ন হন, তাই তাঁর নাম হয় দেবী কৌশিকী। ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যা তিথিতেই দেবী কৌশিকী অত্যাচারী শুম্ভ-নিশুম্ভকে বিনাশ করে স্বর্গ ও মর্ত্যে পুনরায় শান্তি ফিরিয়ে আনেন।
তারাপীঠ ও সাধক বামাক্ষ্যাপার অলৌকিক স্থান
শাক্ত সাধকদের কাছে কৌশিকী অমাবস্যা এবং বীরভূমের মহাপীঠ তারাপীঠ অবিচ্ছেদ্য। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী কৌশিকী এবং তারাপীঠের মা তারা মূলত একই পরম শক্তির ভিন্ন রূপ।
তারাপীঠের ইতিহাসে ১২৭৪ বঙ্গাব্দের কৌশিকী অমাবস্যা এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা দিন। এই বিশেষ রাতে তারাপীঠের মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় কঠোর তন্ত্র সাধনা করে তারা মায়ের প্রত্যক্ষ দর্শন ও সিদ্ধিলাভ করেছিলেন মহাযোগী সাধক বামাক্ষ্যাপা। সেই থেকে সমস্ত তন্ত্রসাধক ও ভক্তদের কাছে নিজের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এই রাতটি অত্যন্ত অলৌকিক ও ফলদায়ক বলে গণ্য হয়।
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠের আচার ও পুজো
কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে তারাপীঠের মূল মন্দিরে মা তারাকে বিশেষ রাজবেশে সাজানো হয়। সারাদিন ও সারারাত ধরে চলে বিশেষ পুজো, হোম, আরতি ও নিশিপুজো। মা তারাকে ভোগ হিসেবে পোলাও, নানা পদের ভাজা এবং ঐতিহ্যবাহী শোল মাছ পোড়া নিবেদন করা হয়। মনে করা হয়, এই তিথিতে মায়ের কাছে একমনে মনস্কামনা জানালে তিনি ভক্তকে ভব সাগরের সংকট থেকে উদ্ধার করেন।



