আত্মহত্যার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে এ বিষয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজএবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জীবনে যত বড় প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। জীবনে ব্যর্থতা আসতেই পারে। তবে ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে সাফল্য অর্জনের জন্য বারবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মানুষ জীবনে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, আত্মহত্যাকে ‘না’ বলতে হবে এবং একই সঙ্গে পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজেদের সমস্যা, অনুভূতি ও মানসিক চাপ পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে ভাগাভাগি করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলা সম্ভব না হলে বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গে তা শেয়ার করা যেতে পারে। পারস্পরিক মতবিনিময় ও সহমর্মিতার মাধ্যমে মানসিক চাপ ও হতাশা মোকাবিলা করা অনেক সহজ হতে পারে।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গড্ডলিকা প্রবাহে সমাজকে চলতে দিলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ইতিবাচক চিন্তা, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং সচেতনতার মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এডিপির চেয়ারম্যান রওশন আরা জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনের অধ্যক্ষ আফরোজা শারমিন।




