জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মূল্যবান এই ধাতুর দাম গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯৮০ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৯১ দশমিক ১০ ডলারে নেমে আসে।
চলতি অক্টোবর মাসে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। জ্বালানি তেলের বাজারে ঊর্ধ্বগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা স্বর্ণের বাজারে এই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, স্বর্ণের বাজারে বর্তমানে দুটি বিষয় চাপ তৈরি করছে। এর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির পরিস্থিতি, অন্যটি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। এসব কারণে ফেডারেল রিজার্ভের ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ তৈরি হচ্ছে।
তবে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্য নিয়ে আশাবাদও প্রকাশ করেছেন এই বিশ্লেষক। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার কিংবা তারও বেশি হতে পারে। তাঁর মতে, একপর্যায়ে ফেডারেল রিজার্ভকে আবার সুদের হার কমানোর পথে যেতে হতে পারে। তখন মূল্যস্ফীতিও বড় উদ্বেগের কারণ না থাকলে স্বর্ণের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স রুপার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৫০ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে।
এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪৪৩ দশমিক ৬৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৮১ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কত?
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতনের মধ্যেও দেশের বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণালঙ্কার। বাংলাদেশে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এক ভরি স্বর্ণের ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
দেশের বাজারে অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির ওপরও দেশের স্বর্ণের দাম নির্ভর করে।





