মৌলবাদ মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের আহ্বান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর

মৌলবাদ মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের আহ্বান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর
মৌলবাদ মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের আহ্বান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর

মৌলবাদের বিস্তার মোকাবিলা এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাজবাড়ী অ্যাকাডেমি আয়োজিত ১০ম বাংলা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে সংস্কৃতিকে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় আনার চেষ্টা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সংস্কৃতির নিজস্বতা ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নতুনভাবে সাজিয়ে আরও গতিশীল করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চারদিকে মৌলবাদের আস্ফালন দেখা যাচ্ছে। এটি মোকাবিলা করতে সাংস্কৃতিক মাধ্যমকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। সংস্কৃতি শুধু গান-বাজনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবনযাপন, আচার-আচরণ, রীতিনীতি ও ঐতিহ্যও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজবাড়ীর হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, জেলায় সংস্কৃতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবার নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামবাংলার ঘুড়ি ওড়ানো, ঘোড়দৌড়, লাঠিখেলা ও পিঠা উৎসবের মতো আয়োজন মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অন্যদিকে যাত্রাপালা ও গীতের মতো লোকজ সংস্কৃতি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। এসব ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিতে হবে।

রাজবাড়ীর সংগীতাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঙ্গনে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভালো কাজ করছেন, তাঁদের আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। জেলার গুণী নৃত্যশিল্পীসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে সম্মিলিত উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে শক্তিশালী করতে হবে।

সংস্কৃতির স্বকীয়তা রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্য ও শিল্পের পরিচায়ক। তাই এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাংলা ভাষার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, বাংলা ভাষাকে সহজ ও যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে ভাষাবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। বাংলা ভাষার শ্রুতিমাধুর্য ও শব্দের অর্থ অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে ভাষাকে আরও সহজবোধ্য ও বাস্তবসম্মত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি ভাষার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজবাড়ী অ্যাকাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের সংস্কৃতির নিজস্বতা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন। সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী অ্যাকাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনাইটেড হসপিটালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. এন এ এম মোমিনুজ্জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিম শফি এবং বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও ডা. আবুল হোসেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল।

স্বাগত বক্তব্য দেন রাজবাড়ী অ্যাকাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইকবাল হোসেন।

এর আগে ১০ম বাংলা উৎসব উপলক্ষে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য বর্ণ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পান্না চত্বর এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে উৎসবের উদ্বোধন করা হয় এবং অনুষ্ঠানের শুরুতে স্মারকগ্রন্থ ‘বর্ণমালা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।