ঝিনাইদহের মহেশপুরে অবস্থিত দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কৃষিমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় দত্তনগর কৃষি ফার্মের উন্নয়ন, আধুনিক কৃষিপণ্য সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বলুহর মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রায় ২ হাজার ৭৩৭ একর আয়তনের দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রস্তাব তুলে ধরেন অ্যাটর্নি-জেনারেল। কৃষিমন্ত্রী প্রস্তাবটি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্যের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে দত্তনগর কৃষি ফার্মসহ মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের কৃষি অঞ্চল পরিদর্শনের আশ্বাস দেন। বৈঠকে মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের সাবেক ছাত্রনেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাটর্নি-জেনারেল জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি ও গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি উঠে আসে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি তরুণদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে ধান, সবজি ও আমের পাশাপাশি আঙুর, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, কলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। তবে পর্যাপ্ত হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থার অভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ সমস্যা সমাধানে অঞ্চলে বিশেষ করে ফলমূল সংরক্ষণের জন্য আধুনিক সংরক্ষণাগার ও হিমাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন অ্যাটর্নি-জেনারেল। কৃষিমন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরে অ্যাটর্নি-জেনারেল কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সেখানে দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। কৃষি সচিব এ উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন এবং বাস্তবায়নে তাঁর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া উভয় বৈঠকে কোটচাঁদপুরের বলুহর মৎস্য প্রজনন ও গবেষণা কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্রে রূপান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে সুপারিশ পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বলুহর মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।





