চোরবাগান মণ্ডপে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে গুজবের অভিযোগ, ১৩৫ জনকে ঘিরে বিতর্ক

চোরবাগান মণ্ডপে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে গুজবের অভিযোগ, ১৩৫ জনকে ঘিরে বিতর্ক
চোরবাগান মণ্ডপে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে গুজবের অভিযোগ, ১৩৫ জনকে ঘিরে বিতর্ক

কলকাতা: কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপূজা মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে প্রচারিত তথ্যে। তবে এ নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।

প্রচারিত বিবরণ অনুযায়ী, মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় সরকারি হিসাবে প্রথমে ১৭ জন এবং পরে ১৯ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বলে দাবি করা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মৃতের সংখ্যা ৭৬ উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ব্যবহারকারী তা শেয়ার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৭৬ জনের মৃত্যুর দাবি

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ থেকে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়, যেখানে চোরবাগান মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ৭৬ জনের মৃত্যুর দাবি করা হয়েছিল। কোচবিহারের ইউটিউবার আইনুল হক ওই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে অন্যদেরও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান বলে প্রচারিত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং বারাসাতের একটি পুরোনো ভিডিওকে কলকাতার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচারের অভিযোগও উঠেছে। ওই ভিডিওর মাধ্যমে কলকাতা মেডিকেল কলেজে মৃত ব্যক্তিদের চোখ চুরির দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির প্রকৃত উৎস ও দাবিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

১৩৫টি শেয়ারের দাবি, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন

প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পোস্টটি ১৩৫ বার শেয়ার করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার এবং বাকি ১৩৩ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা, পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের নিশ্চিতকরণ ছাড়া এসব তথ্যকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায় না।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পোস্টটি শেয়ার করা ব্যক্তিদের কাছে ৭৬ জনের মৃত্যুর দাবির পক্ষে নাম-পরিচয়সহ প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের জন্য পোস্টের উৎস, তথ্যের সত্যতা, উদ্দেশ্য এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁদের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি।

রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগ

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের একটি ভারতবিরোধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তদন্তকারী সংস্থার যাচাইকৃত তথ্য বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারি ঘোষণা, হাসপাতাল ও পুলিশের নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ এবং কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

চোরবাগান মণ্ডপের ঘটনা ঘিরে মৃত্যুর সংখ্যা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট এবং গ্রেপ্তারসংক্রান্ত দাবির প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।