বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, সংগঠনের কার্যক্রমে অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিজন কান্তি সরকার।
শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধসহ মোট ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের প্রধান অভিযোগসমূহ
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি গৌতম মিত্র। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণে জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী এই সনাতন সংগঠনটিকে ধ্বংসের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসু জানান, গত ২ আগস্ট বিকেলে বিজন কান্তি সরকার সংগঠনের সভাপতি অপর্ণা রায় দাসের মোবাইল থেকে কল করে তাকে অফিসার্স ক্লাবে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা এবং ‘বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টে’র প্রায় ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী।
সমীর বসু আরও বলেন, “আলোচনার একপর্যায়ে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ হঠাৎ আমার ওপর চড়াও হয় এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে কিছু ব্যক্তি আমাকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। এর আগে আমাকে হুমকি দেওয়া হয় যে, সংগঠনে আমার কোনো স্থান থাকবে না এবং এমপি-মন্ত্রীদের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
তিনি জানান, উক্ত ঘটনার পর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মিল্টন বৈদ্যকে সাধারণ সম্পাদক করে চার সদস্যের একটি নতুন অনৈতিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সংগঠনের অবস্থান ও ৬ দফা দাবি
সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কোনো মূল দলের অঙ্গসংগঠন নয়; এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংগঠন।
সংগঠনের ব্যাকগ্রাউন্ড: ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের নেতাদের সমন্বয়ে ফ্রন্টটি গঠিত হয় এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে প্রধান উপদেষ্টা করে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়।
বর্তমান পরিধি: সাত মাসের মধ্যে ৫০টি জেলা ও মহানগর কমিটি গঠিত হয়, যা বর্তমানে ৬২টি ইউনিট এবং প্রায় দুই লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে বিস্তৃত।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ২ আগস্টের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, শারীরিক হামলা ও হুমকি বন্ধ, অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্প্রদায়ের মাঝে বিভাজন সৃষ্টির চক্রান্ত বন্ধের দাবি জানানো হয়।
বিজন কান্তি সরকারের বক্তব্য: “অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার সকল দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, দুই পক্ষের বিভেদ দূর করে জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের একটি ঐক্যবদ্ধ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, সমীর কুমার বসুকে কেউ কোনো প্রকার হেনস্তা বা মারধর করেনি। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কমিটি পুনর্গঠন করা হয় এবং নতুন কমিটিতে সমীর বাদ পড়েন। বিজন কান্তি সরকারের মতে, “পদ ও কমিটি থেকে বাদ পড়ার ক্ষোভ থেকেই সমীর এই সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করছেন, যা রীতিমতো অপরাধমূলক।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট মূলতঃ ‘বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টে’র অঙ্গসংগঠন হিসেবে অনুমোদিত এবং একই নামে একাধিক কমিটি থাকার কোনো সুযোগ নেই।





