খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, নারী ও শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি সুরক্ষা এবং দেশের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাকে (এফএও) আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি।

আজ সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি এবং সহকারী প্রতিনিধি (প্রোগ্রাম) ইমানুন নবী খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি, নারী ও শিশুর পুষ্টি সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এফএওর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমাজের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা ক্রমেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের পুষ্টি সুরক্ষায় বাংলাদেশে এফএওর চলমান কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান তিনি। পাশাপাশি এসব জনগোষ্ঠীকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দেন খাদ্যমন্ত্রী।

খাদ্যশস্য সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, জলবায়ুগত প্রতিকূলতার কারণে দীর্ঘ সময় খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ছয় মাসের বেশি সময় শস্য সংরক্ষণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যশস্য মজুদের কার্যকর পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ে এফএওর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে গবেষণাভিত্তিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি ফর্টিফায়েড রাইসের পুষ্টিগুণ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়নে গবেষণা পরিচালনায় এফএওর সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।

জবাবে এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার এবং মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংস্থাটি বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে এফএওর অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা ও চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খান, খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।