নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে হঠাৎ করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাও করে। ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ।

বিএনপি নেতাকর্মীদের আশঙ্কা যে কোনো সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। বিএনপি কার্যালয়ে অবস্থানরত দলটির কর্মী সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী ৮ই ফেব্রুয়রি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে হঠাৎ রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে উঠেছে।

সারাদেশের বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ।

এর আগে গত ১লা ফেব্রুয়ারি বিএনপির নয়া পল্টন অফিসের বিদ্যুৎ লাইন, ডিশ লাইন ও টেলেফোন লাইন কেটে দেয়ার অভিযোগ করে দলটির নেতারা। ৩০ শে জানুয়ারি বিকেলে বেগম খালেদা জিয়া আদালত থেকে বাসায় ফেরার সময় রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের সামনে কদম ফোয়ারার মোড়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসময় পুলিশের প্রিজন ভ্যান ভেঙে আগেই আটক করা বিএনপির দুই নেতাকে ছাড়িয়ে নেয় দলটির নেতারা। এতে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনীতির মাঠ। এর পর থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ১২ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আটকের অভিযোগ করেছে দলটি।

গুলশানে বেগম জিয়ার বাসভবনেই সাব জেল !,…………..

বেগম খালেদা জিয়া ৮ ফেব্রুয়ারি জেলে যাচ্ছেন, এ সম্পর্কে তিনি মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু তার জেলটা কোথায় হবে সে সম্পর্কে তিনি এখনো নিশ্চিত নন। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এমন দুইজন বিএনপি নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনকে আশ্বস্ত করেছে যে, গুলশানে বেগম জিয়ার বাসভবনেই সাব জেল ঘোষণা করে তাকে সেখানে রাখা হবে। কিন্তু এই ব্যাপারে সংশয়মুক্ত নন বেগম জিয়া নিজেই। তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, এতো বড় বাড়ীকে কীভাবে সাব জেল করা সম্ভব?

একাধিক গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গুলশানের বাসভবন সাবজেল করার ক্ষেত্রে কিছু আইনগত সমস্যা রয়েছে। জেলকোড অনুযায়ী কাউকে সাবজেলে অন্তরীন করা হলে তাকেএকটি কক্ষ বা এলাকাতে অন্তরীন রাখা হবে। কারা বিধি অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আটক কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। জেলকোড অনুযায়ী,আটক ব্যক্তি টেলিফোন, ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত থাকবেন। গুলশানের প্রাসাদোসম বাড়ীতে জেলকোড এবং কারাবিধি কতটা প্রতিপালন করা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঐ বাড়ীতে বেগম জিয়া ১২জন ব্যক্তিগত স্টাফ থাকেন। এছাড়াও দলীয় স্টাফ আরও ৬জন এখানে থেকেই দাপ্তরিক কাজ করে থাকেন। পুরো বাড়িটা ওয়াই-ফাই এর আওতায়।এসবের চেয়েও বড় কথা হলো, বাড়ীটি ঢাকার স্পর্শকাতর কূটনীতিক এলাকায়। ঐ বাড়ীকে ঘিরে যদি বিএনপি আন্দোলন করতে চায় তাহলে ডিপ্লোম্যাটিক জোনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাথায় বিকল্প চিন্তা এসেছে।

বেগম জিয়ার ঘনিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেগম জিয়ারও ধারণা শেষ পর্যন্ত তাঁকে অন্যকোথাও নেবে। এটা কাশিমপুর না বকশীবাজারের পুরনো কারাগার নাকি অন্যকোন স্থান সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে যেখানেই নেয়া হোক বেগম জিয়া তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছানো শুরু করেছেন। শামীম ইস্কান্দরের স্ত্রী ও তাঁর দুজন ব্যাক্তিগত স্টাফ বেগম জিয়ার ব্যাগ গুছানোর কাজ করছেন। বেগম জিয়ার ঘনিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কারাগারে থাকলেও তিনি তাঁর মেকআপ বক্স সঙ্গেই নেবেন। মেকআপ বক্সের বাইরে তিনি পরিধেয় শাড়ি এবং আনুষাঙ্গিক পরিধেয় নেবেন দুই স্যুটকেস। এক স্যুটকেসে থাকবে তাঁর জুতো। ঔষধপত্র এবং বিছানার চাদর ইত্যাদি নেবেন এক স্যুটকেসে। অর্থাৎ জেল যাত্রাতেও বেগম জিয়ার সঙ্গী হবে ৫ স্যুটকেস। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, যদি বেগম জিয়া দণ্ডিত হয়ে জেলএ যান,সেক্ষেত্রে তিনি ডিভিশন প্রাপ্ত কয়েদীর মর্যাদা পাবেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য হিসেবে কারা বিধি অনুযায়ী তিনি এই ভি আই পি মর্যাদা পাবেন। এতে তাঁকে দেখভাল করার জন্য দুইজন ফালতু (দীর্ঘদিন দণ্ডিত কয়েদী) দেয়া হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।