ঢাকা: আগামী ২৬ আগস্ট সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্যাপিত হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন ও জীবনের তাৎপর্য তুলে ধরতে সরকার ইতোমধ্যে নানা বিধ বর্ণাঢ্য জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে।
সম্প্রতি ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কর্মসূচি রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়। বৈঠকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশ নেন।
জাতীয় কর্মসূচির প্রধান আকর্ষণসমূহ
দিবসটি পালনে সরকারি ও ধর্মীয় পর্যায় থেকে যেসব প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
জাতীয় পতাকা ও সাজসজ্জা: দিনটিতে সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীর প্রধান সড়ক ও ট্রাফিক আইল্যান্ডে জাতীয় ও রঙিন পতাকার পাশাপাশি ‘কালিমা তায়্যিবা’ লিখিত ব্যানার শোভা পাবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী: পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করবেন।
মাসব্যাপী বইমেলা ও স্মরণিকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলা আয়োজন করবে। এছাড়া বিশেষ স্মরণিকা ও সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে।
বিশেষ খাদ্য পরিবেশন: হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, সরকারি শিশু সদন ও প্রবীণ নিবাসগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
আলোচনা সভা, প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য উদ্যোগ
মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা, ইসলামের শান্তি, সাম্য, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আলোচনার আয়োজন করা হবে:
শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান: স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পকলা একাডেমি এবং শিশু একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কিরাত, হামদ-নাত, রচনা, খুতবা লিখন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।
মসজিদে দোয়া ও ওয়াজ: সচিবালয় মসজিদসহ দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায় এবং সকল মসজিদে বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
মিডিয়া ও প্রকাশনা: বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারসহ সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।
কূটনৈতিক মিশন: দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে থাকা সকল বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং শান্তি বজায় রাখতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



