বিশেষ প্রতিবেদক অসিত কুমার ঘোষ (বাবু)ঃ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় আগামী ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণা করবে আদালত।
সোমবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো: জাহিদুল কবির পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের অস্থায়ী এজলাসে রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেন।
গত ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০০০ সালের ছিয়াত্তর কেজি বোমাসহ দুইটি হত্যা চেষ্টার মামলায় দশ আসামীর মৃত্যুদ- এবং এক আসামীর যাবজ্জীবন কারাদ- এবং অপর ৩ আসামীর ১৪ বছর করে কারাদ- এবং ৯ আসামীর ২০ বছর করে কারাদ-ের রায় প্রদান করে ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ফ্রিডম পার্টির নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধানম-ির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। তিনি তখন ওই বাসাতেই থাকতেন এবং ঘটনার সময় ওই বাড়ীতেই অবস্থান করছিলেন। ওই ঘটনায় বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল ৩২ নম্বরের বাড়িতে অতর্কিত গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা করে এবং হামলাকারীরা তখন ‘কর্নেল ফারুক-রশিদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
মামলার তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১৬ জনকে আসামী করে আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়।
২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হয়। মামলার আসামীদের মধ্যে গোলাম সারোয়ার, ফ্রিডম সোহেল, জর্জ, মো: শাজাহান বালু, নাজমুল মাকসুদ মুরাদ কারাগারে রয়েছেন। জামিনে রয়েছেন হুমায়ুন কবির (১), মিজানুর রহমান, খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল ও গাজী ইমাম হোসেন।
মামলার অপর আসামী সৈয়দ ফারুক রশীদ ও বজলুল হুদার বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তাদের চার্জ গঠনের সময় অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অপর চার আসামী লেফটেনেন্ট কর্নেল আবদুর রশীদ, মো: হুমায়ুন কবীর (২), জাফর আহম্মদ, রেজাউল ইসলাম খান পলাতক ছিলেন। ২০১৪ সালেই মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ পর্যায়ে আসে। কিন্তু পলাতক থাকা আসামী নাজমুল মাকসুদ মুরাদকে ২০১৪ সালে ২০ মার্চ ইন্টারপোলের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর পুনরায় ওই আসামীপক্ষে জেরার জন্য সাক্ষীদের রি-কল করা হয়।



