মহামারী করোনায় থেমে নেই ধামরাইয়ে ইটভাটার কাজ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শ্রমিক

মহামারী করোনায় থেমে নেই ধামরাইয়ে ইটভাটার কাজ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার, দুলাল পালঃ বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে বাংলাদেশেও দিন দিন বেড়ে চলেছে মরণ ব্যাধি করোনা ভাইরাস আক্রান্তর সংখ্যা সাথে বেড়ে চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। সরকার মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশের মানুষকে ঘরে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকার ধামরাই সেই সরকারের আদেশ অমান্য করে শত শত শ্রমিক দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করিয়ে যাচ্ছে ইটভাটার মালিকরা।

শ্রমিকদের দাবি সরকার যদি এই মুহুর্তে পদক্ষেপ না নেয় তাহলে যে কোন সময় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে খেটে খাওয়া মানুষের শরীরে এবং ঘটে যেতে পারে মৃত্যুর মিছিল।

গতকাল সোমবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে ইটভাটার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে দেখা যায়, ইটভাটার আশে পাশের দোকানপাট গুলি বিকাল হলে শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে এক জায়গায় জড়ো হয়ে নিজেদের মত চলতে থাকে। তাদেরকে সামাজিক দুরুত্বের কথা বলা হলে তারা মনের ক্ষোভে বলে আমাদের আবার সামাজিক দূরত্ব। যেখানে সারা দেশের কল কারখানার কাজ কর্ম বন্ধ সেখানে আমাদের কাজ করতে হইতেছে। এছাড়া তারা আরও বলে খোলা আকাশের নিচে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের দেখার কেউ নেই।

এই ব্যাপারে কয়েকটি ইটভাটার মালিকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের আর কিছু দিন পর ইট তৈরির মৌসুম শেষ হয়ে যাবে। তাই এখনি যতটুকু পারছি ইট তৈরি করে যাচ্ছি।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বললে তারা বলেন, এদের আবার সুরক্ষা লাগে নাকি, এরা করোনা ভাইরাসের চেয়ে ও শক্ত। মালিকের এমন অবহেলার কথা শুনে আমি অবাক চোখে তাকিয়ে রইলাম মালিকের দিকে। তার এই কথা শুনে আমি বললাম যদি কোন শ্রমিকের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে আপনি কি করবেন তখন সে বলে হাসপাতালে নিয়ে যাব। প্রতিটি ইটভাটায় প্রায় তিন শত শ্রমিক কাজ করে বলে জানান মালিক পক্ষ।

এ ব্যাপারে শ্রমিক আঃ মজিদ, শাকিল, মোহন বলেন, আমারা কাজ না করলে আমাদের জোর করে কাজ করানো হয়। বাড়ী যেতে চাইলে যেতে দেয়না মালিক। আর বলে যদি কেউ বাড়ী যেতে চাস তাহলে তাকে পুলিশ দিয়ে ধরে পিটানো হবে। মনের দুঃখে বলে আমরা মালিকের কাছে মানুষ না।

এই ব্যাপারে ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। কারণ দেশের অবস্থা ভেবে ও সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য শ্রমিকদের হোম কোয়ারেন্টাইন রাখার জন্য ইটভাটা মালিকেদের বলা হয়েছে।

এই ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সামিউল হক বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বলা হয়েছে। যদি কেউ আইন অমান্য করে তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।