× Banner
সর্বশেষ
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে এইচআরসিবিএম রাষ্ট্র সংস্কার ও সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের গত ছয় মাসে ৮২৪টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত -এইচআরসিবিএম আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকালেই রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২৫ জুলাই (শনিবার) দিনের শুরুতে পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রস্তাব গৃহীত ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: নির্বাচন কমিশনার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে -শিক্ষামন্ত্রী প্রতিশ্রুতির প্রত্যেকটি কাজ শুরু করে দিয়েছে সরকার -এমপি খোকন তাালুকদার সবার আগে বাংলাদেশ সেটা মাথায় রেখে সকলের কাজ করতে হবে -এমপি খোকন তালুকদার

বিশেষ প্রতিবেদক

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে এইচআরসিবিএম

Kishori
হালনাগাদ: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচারহীনতার অবসান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠন এবং ট্রানজিশনাল জাস্টিস বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (HRCBM)।

২৪ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের হলরুম–১-এ “Equal Citizens, Equal Justice” শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে সংগঠনটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড় এ দাবি তুলে ধরেন।

সংস্থাটির উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮২৪টি সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬৮টি হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যু, ২২৩টি অপহরণ ও শারীরিক হামলা, ২৩৪টি ভূমি দখল, সম্পত্তিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ১৪১টি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৪১টি যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের অভিযোগ এবং ১৭টি ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত ঘটনা

কেন জুডিশিয়াল কমিশন চায় HRCBM

প্রতিবেদনের আলোকে HRCBM বলছে, চারটি প্রধান কারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠন প্রয়োজন।

প্রথমত, সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, নথিভুক্ত বহু ঘটনার কার্যকর তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে ঘটনাগুলোর প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বিচার বিভাগীয় নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মব সহিংসতা, সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা এবং উপাসনালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

তৃতীয়ত, ভূমি দখল, লুটপাট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ন্যায়বিচার নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলে সংগঠনটি মনে করে। তাদের মতে, বিচারক, আইনজীবী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন কমিশন এ আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।

চতুর্থত, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার প্রকৃত সংখ্যা নথিভুক্ত ঘটনার চেয়ে বেশি হতে পারে। অনেক ভুক্তভোগী বা পরিবার অভিযোগ দায়ের না করায় প্রকৃত চিত্র সামনে আসে না বলে HRCBM-এর দাবি।

ট্রানজিশনাল জাস্টিস বাস্তবায়নের আহ্বান

সংগঠনটি অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার, সত্য উদঘাটন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ট্রানজিশনাল জাস্টিস বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।

HRCBM-এর মতে, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সংগঠনটি রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের রূপরেখা প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুপারিশ করতে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত পরিসংখ্যান, অভিযোগ এবং সুপারিশগুলো HRCBM-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি ও বক্তব্য। এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত নয়।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..