স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে সংখ্যালঘুর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এল কেন? -রানা দাশগুপ্ত

স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে সংখ্যালঘুর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এল কেন? -রানা দাশগুপ্ত

স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে সংখ্যালঘুর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এল কেন? ১৯৪৭ সালের পূর্ব বাংলার ২৯ দশমিক ৭ ভাগ ছিল সংখ্যালঘু। ১৯৭০ এ তা নেমে আসল ২০ শতাংশে। আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৭০’র ২০ শতাংশ ৫০ বছর পেরিয়ে ১০ শতাংশে নেমে এলো কেন? কী কারণে? তারা দেশত্যাগে বাধ্য হলো কেন? বাধ্য করছেন কারা? বলেছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লার চসিক কেবি আবদুচ সাত্তার মিলনায়তনে হিন্দু সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করে উদ্বোধন ঘোষণা করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

রানা দাশগুপ্ত রাজনীতিবিদদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, মুজিব কোর্ট গায়ে দিলেই সবাই আওয়ামী লীগ হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক ভালো কাজ আজ নষ্ট করে দিচ্ছে কারা? কেন দিচ্ছে? গায়ে তাদের কীসের পোশাক? অর্জনগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে আর তারপর যদি বলেন কাউয়া ঢুকেছে, আর পাখি ঢুকেছে- হবে? এতে সুযোগ পাচ্ছে কারা? প্রতিক্রিয়াশীলরা।

তিনি আরও বলেন, ৭২’র সংবিধান রচিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু ৭৫’এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে পাকিস্তান বানানোর অপচেষ্টা শুরু হয়। ৭৫’র হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল তারা চেয়েছিল পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্রীয় সংবিধানে সাম্প্রদায়িকীকরণ করতে। রাজনীতি যদি প্রকৃত অর্থে অসাম্প্রদায়িক না হয়, রাষ্ট্র যদি প্রকৃত অর্থে ৭২’র সংবিধানে ফিরে না আসে- তাহলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়া, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের সংবিধান এখনো জিয়া-এরশাদের প্রেতাত্মা থেকে মুক্ত হতে পারেনি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানি সংবিধানের আদলে সংবিধানকে সাম্প্রদায়িকীকরণ করেছে। একই ধারায় জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় এসে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম করে সংবিধানে সংযুক্ত করার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকীকরণ করেছে। এর লক্ষ্য একটাই, পাকিস্তানি আদলে বাংলাদেশেও ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুকে রাষ্ট্রীয় সংখ্যালঘুতে পরিণত করা। আজ ধর্মনিরপেক্ষ সরকার এসেছে কিন্তু জিয়াউর রহমান ও এরশাদের প্রেতাত্মা থেকে এখনো বাংলাদেশের সংবিধান মুক্ত হতে পারেনি।

হিন্দু সমাজকল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা, সাংবাদিক প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুজা উদযাপন পরিসদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, চসিক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আশুতোষ দে, যুব রেডক্রিসেন্ট চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ ইমু, উজ্জ্বল চক্রবর্তী, কার্তিক চন্দ্র দে, কল্যাণ ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দে মুন্না।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হিন্দু সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
সংবাদ প্রতিনিধি

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।