সীমান্ত থাকলেও মনের কোনও সীমানা নেই: মমতা

১৬ ডিসেম্বর ২০১৬, শুক্রবার,
বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বাংলার সম্পর্ক চিরন্তন। আমাদের মাঝে সীমান্ত থাকলেও আমরা কখনো সীমানার কথা স্মরণ করি না। সীমান্ত টেকনিক্যাল বিষয়। কিন্তু মনের কোনও সীমানা নেই। গত শুক্রবার কলকাতায় নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বাংলাদেশের বিজয় উৎসবে প্রধান অথিথির ভাষণে এসব কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি আরও বলেছেন, আমাদের দুই বাংলায় মধ্যে ভালবাসা চিরকাল ছিল, এখনো আছে , ভবিষ্যতেও থাকবে। সুদীর্ঘ কালের এই মধুর সম্পর্ক আরও মধুর হবে আমাদের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে। পাঁচদিন ব্যাপী এই বিজয় উৎসব দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশ দূতাবাসের বাইরে বড় পরিসরে আয়োজিত হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে মমতা বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেই অবিস্মরণীয় শ্লোগান জয়বাংলা আমাদের হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে গিয়েছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই শ্লোগান আমাকেও উজ্জীবিত করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা আরও ভাল করে দেশ চালাবেন এই আশা প্রকাশ করে মমতা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি সাফল্যের সঙ্গে রুপায়িত হয়েছে। এর ফলে ছিটমহলের মানুষের স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছেন। আর এই সাফল্য যেমন হাসিনার সাফল্য তেমনি এই বাংলারও সাফল্য। এদিন সন্ধ্যায় বিজয় উৎসবের উদ্বোধন করে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অকৃত্রিম। আর তাই সমস্যা থাকলেও তা সব সময় আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান সম্ভব বলে মনে করি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার জকি আহাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট অভিনেতা ফেরদৌস হাসান।
অনুষ্ঠান শেষে প্রখ্যাত নৃত্য শিল্পী শিবলী মোহাম্মদ এবং  শামীম আরা নিপার নেতৃত্বে নৃত্যাঞ্চলের শিল্পীরা নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করেছেন। এদিন মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি চিত্র প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয়েছে। এবারে এই উৎসবকে ঘিরে পাঁচদিনই থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকছে নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সঙ্গীত, লোকগীতি, বাউলগান, লালন গীতি, আধুনিক গান, ব্যান্ড সঙ্গীত, সুফি সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক। বাংলাদেশের প্রথিতযশা শিল্পীরা এতে অংশগ্রহন করবেন। এবারের উৎসবের অতিরিক্ত আকর্ষন  মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শণ।

বিজয় উৎসবকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশের পণ্যের এক মেলারও। এই মেলায় মিলছে ঢাকাই জামদানি, রাজশাহী সিল্ক, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ী, হস্ত শিল্পজাত নানা পণ্য, বাটিক, সিরামিক ও মেলামাইন সামগ্রী। থাকছে বাংলাদেশের কাচ্চি বিরিয়ানি, ভুনা খিচুরি, ঐতিহ্যবাহী পিঠা, মিস্টি সহ নানা খাবার।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।