সিলেটে এনআইডি সংশোধনে ভোগান্তি কমেছে

সিলেটে এনআইডি সংশোধনে ভোগান্তি কমেছে

প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা সিলেটে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে ভোগান্তির শেষ ছিল না। সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে ঘুরতে হয়েছে দিনের পর দিন। তবে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদেরের অনন্য উদ্যোগে ভোগান্তি কমছে এনআইডি সংশোধনে। ভোগান্তি কমাতে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবারে গণশুনানির আয়োজন করা হয় আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে। যার ফলে কমে এসেছে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ভোগান্তি। গণশুনানিতে আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এলেই সংশোধনের কাজ করে দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। এতে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে আসা জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তিবোধ কাজ করছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর মেন্দিবাগস্থ সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের সম্মেলন কক্ষে পূর্বনির্ধারিত গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শতাধিক সেবাপ্রত্যাশী, তাদের কাগজপত্র দেখে আবেদন নিষ্পত্তি করে দেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের আর এই কাজে সহযোগিতা করেন আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ওলীউর রহমান চৌধুরী। উপস্থিত সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে কেউ এসেছেন নিজের নাম সংশোধনে, কারও প্রয়োজন বাবা-মা কিংবা জন্ম তারিখ সংশোধন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের সবার সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে সংশোধনের পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের কাজ করাতে পেরে সন্তুষ্ট ছিলেন উপস্থিত সবাই।

মৌলভীবাজার থেকে সেবা নিতে আসা মরিয়ম বেগম জানান, নিজের নাম সংশোধনের জন্য দীর্ঘ দিন থেকে বিভিন্ন অফিসে ঘুরেছি কিন্তু কোন সুরাহা পাইনি। অবশেষে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে এসেছি সংশোধনের জন্য। এখানে আসার পর কর্মকর্তা আমার সকল কাগজপত্র দেখে তা সংশোধন করে দিয়েছেন। এতে আমি আনন্দিত।

হবিগঞ্জ থেকে সেবা নিতে আসা মাসুদুর রহমান জানান, ৩-৪ মাস আগে জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করেছিলাম। উপজেলা অফিসে কয়েকবার যাওয়া পর জানান এটি আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় অফিসে আছে, তাই আমি এখানে এসেছি। এখানে আসার পর গণশুনানিতে আমার সকল কাগজপত্র দেখে তা সংশোধন করে দিয়েছেন। শুনেছি সরকারি এই সেবা পেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় কিন্তু এখানে এসে তা ভুল প্রমাণিত হল। এভাবে যেন সকল অফিসে সেবা পাওয়া যায় তাহলে আমাদের আর কোন ভোগান্তি থাকবে না।

ঘোয়াইনঘাট থেকে আসা ডলি আক্তার জানান, আমার জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার না ভুল ছিলো। আজ গণশুনানিতে আসলাম এসে আমার সকল কাগজপত্র দেখালাম সাথে সাথে আমার সংশোধনের কাজ করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সুনামগঞ্জ থেকে আসা আব্দুস শুকুর জানান, আমি প্রবাসে থাকি এখন দেশে এসেছি। আসার পর আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নবায়ন করতে গিয়ে দেখি এনআইডির সাথে পাসপোর্টের জন্ম তারিখের মিল নেই। তারপর সংশোধন আবেদন করে এখানে আসলাম। কাগজপত্র দেখে জন্ম তারিখ সংশোধন করে দিয়েছেন। নিজের মধ্যে এখন স্বস্তিবোধ কাজ করছে। আঞ্চলিক নিবার্চন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই অফিতে প্রতিদিন জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য শতাধিক আবেদন হয়ে থাকে।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। তাই সেবাগ্রহীতাদের এনআইডি সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি মঙ্গলবার গণশুনানি করা হয়। নির্বাচন কমিশনের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য এ গণশুনানি মাঠ পর্যায়ে শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণশুনানির দিন যার যা প্রমাণাদি আছে, তাই নিয়েই আসতে বলা হয়। এতে যদি কাগজপত্র ঠিক থাকে এবং আমাদের কাজে বিষয়টি প্রকৃত মনে হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদন আমলে নিয়ে সংশোধন করে দিই। আর যদি সঠিক বলে বিবেচিত না হয় বা তথ্য-প্রমাণে ঘাটতিও থাকে, তবে সেটিও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দিই। এ ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে সেবা গ্রহীতার মোবাইলে এ বিষয়ে মেসেজ চলে যায়।

ফয়সল কাদের বলেন, গণশুনানিতে সিলেটের মানুষের উপকার হচ্ছে। তারা দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। গণশুনানিতে সেবা গ্রহীতার সাথে সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে আমাদেরও সুবিধা হচ্ছে। কাগজপত্র দেখে যা বোঝা যায় না, তা সেবা গ্রহীতার সাথে সরাসরি কথা বলে অনায়াসে বোঝা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার ছাড়াও বন্ধের দিন ব্যাতিত সংশোধনের কাজ করে দেওয়া হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
সংবাদ প্রতিনিধি

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।