সিন্ধু জলের যে কোনও প্রকল্প ধ্বংস করার হুমকি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

সিন্ধু জলের যে কোনও প্রকল্প ধ্বংস করার হুমকি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ভারতের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা লাগাতার বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সিন্ধু জলের ভাগ নিয়ে যে কোনও প্রকল্প গড়ে তুললে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে সরাসরি হুমকি দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

পাকিস্তান প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ভারত যদি সিন্ধু নদী অববাহিকায় কোনও কাঠামো নির্মাণের চেষ্টা করে, তা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বলে গণ্য হবে। আমরা তা ধ্বংস করে দেব।”

হুঁশিয়ারি নয়, যুদ্ধংদেহী ভাষাঃ খাজা আসিফ আরও বলেন, “এমন কোনও আর্কিটেকচারের চেষ্টাও যদি করা হয়, তা পাকিস্তানের উপর হামলার সমতুল্য। ভারত যদি আমাদের জল সরিয়ে নিতে চায়, সেটাই হবে আসল আগ্রাসন।”এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মহলে উস্কানিমূলক ও যুদ্ধপরিস্থিতি ঘনিয়ে আনার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন সময় যখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে, তখন এই ধরনের বিবৃতি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

ভারতের পাল্টা বার্তা ও কৌশলগত জবাবঃ ভারত ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, পহেলগাঁও হামলার পর ‘সামরিক, কূটনৈতিক ও জলনীতির স্তরে’ উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। সিন্ধু জলচুক্তি, যা ১৯৬০ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটিকে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত বলে ব্যাখ্যা করেছে নয়াদিল্লি। বিশ্লেষকদের মতে, জলচুক্তির বিষয়টি ভারতের কাছে একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার, যা পাকিস্তানের কৃষি ও অর্থনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টাঃ খাজা আসিফের এই মন্তব্য ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক সহানুভূতি আদায়ের একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সিন্ধু চুক্তির আওতায় পাকিস্তান প্রতিবছর সিন্ধু, চেনাব ও ঝেলম নদীর জলের সিংহভাগ পেয়ে থাকে। সেই জল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এমনিতেই উত্তপ্ত, তার উপর জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে নেওয়া ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের পর এবার জলকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব নতুন রূপ নিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের। এখন দেখার বিষয়, নয়াদিল্লি এই উস্কানির পাল্টা কী জবাব দেয়।

সম্প্রতি ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছে, যা পাকিস্তানের কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের মোট কৃষিজমির প্রায় ৮০ শতাংশ এই চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত জলের উপর নির্ভরশীল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।