সিইউএফএল‘এ অডিট আপত্তি নিস্পত্তির নামে কোটি টাকার বাণিজ্য

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রামঃ দেশের বিভিন্ন সার কারখানার মতো চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড(সিইউএফএল) শ্রমিক কর্মচারীদের ওভার টাইমের পারিশ্রমিক প্রদান নিয়ে রয়েছে অডিট অপত্তি। এই অডিট অপত্তি নিস্পত্তির নামে কতিপয় সিবিএ নেতা এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সিবিএ নেতা নাসির উদ্দীন অভিযোগ অস্বিকার করে বলেছেন,সামনে নির্বাচন তাই প্রতিপক্ষের লোকেরা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

শ্রমিক কর্মচারীরা বলেছেন, সিবিএ নেতারা অডিট অপত্তি নিস্পত্তির নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে। অথচ বর্তমান সরকারের গঠিত সংসদীয় কমিটি গত অর্থ বছরের সেই অডিট আপত্তির নিস্পত্তি ঘটায়। কিন্ত সিবিএ নেতারা এক্ষেত্রে নানা জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের চাঁদা প্রদানে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। শ্রমিক কর্মচারীদের অভিযোগ,সিবিএ নেতাদের দাবী ২০কোটি টাকার অডিট অপত্তি নিস্পত্তিতে ১কোটি টাকা দরকার। সেই ১কোটি টাকা সংগ্রহ করার জন্য মাঠে তৎপর সিবিএ নেতারা। সাথে কারখানার কতিপয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছে। কিন্ত শ্রমিক কর্মচারীরা টাকা দিতে নারাজ। যেখানে সরকার গঠিত সংসদীয় কমিটি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সেখানে সিবিএ নেতৃবৃন্দ তাদের শেষ সময়ে এসে এই অবৈধ বাণিজ্যে নামাটা কোন ভাবেই মানতে নারাজ।

কেউ কেউ ভাবছে বর্তমান ক্ষমতাসীন সিবিএ আগামী নির্বাচনে ধরাশয়ী হবে। তাই পকেট ভারী করতে এই অপতৎপরতায় লিপ্ত। অভিযোগের তীর বর্তমান নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ম্যানেজিং ডিরেক্টর,জিএম এডমিন,হিসাব বিভাগের প্রধান,সহকারী হিসাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও। বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের সবকটি সার কারখানায় এই আপত্তি ছিল। সরকার অনাপত্তির মাধ্যমে সমাধান করে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু কিছূ অসাধু ব্যক্তির অপতৎপরতায় সাধারন শ্রমিক কর্মচারীগণ সেই সুবিধা এখনো ভোগ করতে পারছেনা। উল্টো তাদের ঘাড়ে সেই অনাপত্তির ফাইল সংগ্রহের নামে চাপানো হচ্ছে কোটি টাকার বোঝা।

সিইউএফএল‘র ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিখিল সূত্রধর ফোন ধরলেও কোন কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সুত্র জানান,অডিট আপত্তির পাশাপাশি আপদকালীন ফান্ডের কথা বলে নিরীহ শ্রমিক কর্মচারীদের থেকে গড়ে ২হাজার টাকা হিসেবে প্রায় ১২লক্ষ টাকা আদায় করার অভিযোগ আছে। আবার একজন অসুস্থ শ্রমিকের জন্য সবার কাছ থেকে বেসিক অনুযায়ী ৫% হারে চাঁদা নির্ধারন করেছে। মানবিক কাজে সবাই সবার সামর্থ্য অনুযায়ী অংশ গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে ওই শ্রমিককে বলা হয়েছে তার একাউন্টে টাকা যাবে। সেখান থেকে একটা নির্দিষ্ট অংশ সিবিএ নেতাদের ফেরত দিতে হবে। মানবিক সহায়তায় নির্ধারিত হারে টাকা আদায়ের ফরমও সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিবিএ সভাপতি নাসির উদ্দীনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,সামনে নির্বাচন সেইজন্য প্রতিপক্ষের লোকজন মরিয়া হয়ে এসব অভিযোগ আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। খেটে খাওয়া শ্রমিক কর্মচারীদের একটিই চাওয়া, যাবতীয় দূর্নীতি, অনিয়ম দুর করে সিইউএফএল‘র শ্রমিকদের নির্বিঘ্নে কাজের পরিবেশ যেন নিশ্চিত হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।