সালথার ঐতিহ্যবাহী ছনের ঘর বিলুপ্তি প্রায়

আবু নাসের হুসাইন, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:  এককালে সারা বাংলার গ্রামগঞ্জের প্রতিটি বাড়িতে ছিলো ছনের ঘর। প্রায় আড়াই যুগ আগেও ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে দু-চারটি করে ছনের ঘর দেখা গেছে। উন্নয়নের পাশাপাশি ইট-বালু, টিন ও অর্থের ভীড়ে আজ হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সেই ছনের ঘর।

দরিদ্রতার প্রতীক ছনের ঘরের ভিতরে বসবাস ছিলো খুবই আরামদায়ক। ছনের ঘর গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা ও শীত মৌসুমে থাকতো গরম। যদিও বৃষ্টি এলে কিছু ছনের ঘর ভেদ করে পানি পড়তো, তারপরও মানুষ মনের আনন্দে বসবাস করতো। সে সময়ে ইট-বালু, সিমেন্ট, টিন কেনার অর্থ না থাকায় বাড়ির পাশের কাঁশবন, ছন, বাঁশ, তালের পাতা, নারিকেলের পাতা ও পাটের রশি দিয়ে ঘর তৈরি করা হতো। ঘর তৈরি করার ঘরামি বা মিস্ত্রীর খুব কদর ছিলো। আর বর্তমানে ইট-বালু, সিমেন্ট হাতের নাগালেই অহরহ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো ক্রয় করার সমর্থনও মানুষের আছে। অন্যদিকে কাঁশবন ও ছন হারিয়ে গেছে। এখন রাজমিস্ত্রী ও কাঠমিন্ত্রীর কদর আছে কিন্তু ছনের ঘর তৈরি করার ঘরামির কোন কদর নেই।

দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ও অর্থনীতি স্বচ্ছল থাকায় এখন উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে কোথাও বসবাস করার মতো ছনের ঘর চোখে পড়ে না। যা দু-চারটি দেখা যায়, সেগুলো সৌখিন ব্যাক্তিরা গরমের সময় আরাম করার জন্য বাড়ির সামনে কাচারী তৈরি করে রেখেছে। কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সেই ছনের ঘর আজ হারিয়ে গেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।