নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের আগস্ট মাসে দেশে ২৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির হিসাবে, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে আটজন নারী ও কন্যাশিশু কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানায়, ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও দুটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আগস্ট মাসের নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত এসব সংবাদ থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে নির্যাতনের শিকার ২৫২ জনের মধ্যে ১১৮ জন কন্যাশিশু এবং ১৩৪ জন নারী।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ৫৫ জন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে নারী ও কন্যাশিশুদের মধ্যে ৫৫ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন কন্যাশিশু এবং ৪৫ জন নারী।
এ ছাড়া মাসটিতে ৫৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকারদের মধ্যে ৩৬ জন কন্যাশিশু এবং ১৮ জন নারী।
ধর্ষণের ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৩ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আটজন কন্যাশিশু। এছাড়া ধর্ষণের পর এক কন্যাশিশুসহ দুজনকে হত্যা করা হয়েছে।
আগস্টে ১৪ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জনই কন্যাশিশু।
যৌন ও সাইবার সহিংসতাও উদ্বেগজনক
মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যানে আগস্টে ৩০ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন কন্যাশিশু।
এ সময় ১৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জন কন্যাশিশু। পাশাপাশি নয়জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন; তাদের মধ্যে আটজন কন্যাশিশু।
সাইবার সহিংসতার ঘটনাতেও নারী ও কন্যাশিশুরা আক্রান্ত হয়েছেন। আগস্টে সাতজন সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন কন্যাশিশু।
নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুরা
মহিলা পরিষদের সংকলিত তথ্যে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর নির্যাতনের আরও বিভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যাচেষ্টা, অগ্নিদগ্ধ, আত্মহত্যা, গৃহকর্মী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ও অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা।
সংগঠনটি বলছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে তৈরি এই পরিসংখ্যান দেশের নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনে।



