বিশেষ প্রতিবেদকঃ এনডিএম-এ আমি দলের একজন কর্মী, সারাজীবন কর্মী হয়েই থাকতে চাই। বললেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন- এনডিএম-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।
আজ ২৪ এপ্রিল সোমবার বেলা ২ ঘটিকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়নে ঢাকা মহানগরসহ হাজার হাজার নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব ববি হাজ্জাজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, এনডিএম- এই দলে সবাই সমান। দলের সকল বড় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কর্মীদের সম্মতিতে, তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে। নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করা হবে প্রাইমারির মাধ্যমে। দলে ছায়া মন্ত্রীসভা থাকবে। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের জন্য এই দল নয়। এনডিএম প্রতিহিংসা ও বিভেদের রাজনীতি করবে না। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে এনডিএম ভুলের সমালোচনা করবে। এই দেশ আমাদের, এই দেশ আমাদের পরিচয়, এই দেশ নিয়ে কোনো ধরনের আপোষ হবে না।
তিনি বলেন, গত দুই বছর খুলনা থেকে জামালপুর, সুনামগঞ্জ থেকে কক্সবাজার ঘুরে জনগণের সাথে কথা বলেছি। এসি রুমে বসে প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দল আত্মপ্রকাশ করেনি। ২০ বছর ধরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছি। অনেক পশ্চিমা দেশেও রাজনীতি ও গণতন্ত্র চর্চা কাছ থেকে দেখে এসেছি। অভিজ্ঞতা থেকেই এনডিএম এর আত্মপ্রকাশের প্রয়াস।
তিনি আরও বলেন, চীন ও সিঙ্গাপুর- আমাদের দেশে কথায় কথায় চীন ও সিঙ্গাপুরের কথা বলা হয়। বলা হয়, সেখানে আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র। কিন্তু চীনে রয়েছে শক্তিশালী আমলাতন্ত্র। আর আমাদের দেশে আমলাদের মধ্যেও রাজনীতি ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর ঢাকা শহরের থেকেও ছোট্ট একটি শহর। সেখানে কোনো কৃষক নেই, শ্রমিক নেই। একমাত্র সঠিক ও জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্রই পারে উন্নয়ন এনে দিতে।
এনডিএমের চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন- ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আমি সঠিক পথেই ছিলাম। কিন্তু আমাদের সাথে অবিচার করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অবিচারের পরও দেশের জনগণের ভালোবাসা আমি দেশের বাহিরে গিয়েও পেয়েছি। সঠিক রাজনীতি মানে জাতির সেবার প্রতিযোগিতা। কিন্তু এখন রাজনীতি মানে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা।
২০১৫ সালের সহিংসতা- ২০১৫ সালে শত শত বাস, গাড়ি ও ট্রেন পোড়ানো হয়েছে। মানুষ পুড়িয়ে, গাড়ি পুড়িয়ে মানুষের সেবা করা যায় না। সেটাও ছিল ক্ষমতা দখলের লড়াই। যারা এসব করেছে তারা পথভ্রষ্ট। আমার বিশ্বাস করি, ঐ দলেও অনেক ত্যাগী ও ভালো নেতা রয়েছে কিন্তু তারা কাজ করছে ভ’ল। জাতীয় পার্টি সংসদের বিরোধীদল। এটা গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্ক।
অর্থনৈতিক ভবিষ্যত- লক্ষ লক্ষ তরুণের চাকরি কোথায়? আমাদের শ্রমবাজার ও গার্মেন্টস শিল্পের ভবিষ্যত কোথায়? আমাদের এখন পর্যন্ত সময়োপযোগী শিল্পনীতি হয়নি, শিল্পের জন্য অবকাঠামো তৈরি হয়নি। আমাদের দেশের কৃষিখাত এখনও বৈষম্যের শিকার। অথচ ৪০ শতাংশ পরিবার এখনও কৃষির উপর নির্ভরশীল । উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার। এখন আমাদের প্রয়োজন জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র, ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ, জনগণের হাতে ক্ষমতা পৌঁছে দেয়া।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কি প্রয়োজন? শুধু ৫ বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন নয়। প্রয়োজন সবার অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন। ২০১৪ সালে একটি নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে যারা বিরোধীদল তারাই এখন সরকারি দল। একই সাথে ছেলে আবার একই সাথে মেয়ে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন স্বাধীন নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা। সঠিক ও অরাজনৈতিক বিচারবিভাগ ছাড়া জবাবদিহিতা আসবে না। এখন সাংবাদিকরা ভয়ে কথা বলতে পারছে না। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাদের সমালোচনা করার অধিকার দিতে হবে।
ধর্মীয় মূল্যবোধ- ধর্মীয় মূল্যবোধ আমাদের শ্রদ্ধা ও সামাজিক মূল্যবোধ শিখায়। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলাম। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এটা বিশ্বকে দেখানোর আমাদের দায়িত্ব।
স্বাধীতার চেতনা- গোষ্ঠী স্বার্থে বিরোধীতা করেই এদেশের জন্ম। পাঞ্জাবি আর্মিরা আমাদের উপর অত্যাচার করেছিল বলেই আমরা অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করেছি। স্বাধীনতার চেতনা মানে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা। এজন্য প্রয়োজন জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র।
কিন্তু আজ কি হচ্ছে? রাজনৈতিক শূণ্যতা বিরাজ করছে। তরুণদের আওয়াজ তোলার জায়গা নেই। লুটতরাজ চলছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি, ব্যাংক লুট, ৭ বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা লুট। পাঠ্যপুস্তবে ত্রুটি, ছাত্রসমাজের মনে ভয় উচ্চ শিক্ষার পরে কি? বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো সাথে চুক্তি হচ্ছে হচ্ছে কিন্তু প্রকাশ হচ্ছে না। তিস্তার পানি চুক্তি আমাদের প্রাকৃতিক অধিকার কিন্তু তা হলো না। আমাদের ভৌগলিক অবস্থান অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কি সামরিক চুক্তি হচ্ছে তা আমরা জানতে পারছি না।
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দাবী প্রসঙ্গে বলেন,
১. জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
২. দূর্নীতি ও লুটতরাজ বন্ধ করতে হবে।
৩. রাজনৈতিক সহিংসতায় ছাত্র ও যুবকদের ঠেলে দেয়া বন্ধ করতে হবে।
৪. আইনের শাসন কায়েম করতে প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
৫. সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
মাননীয় চেয়ারম্যান কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন- আমিও আপনাদের কর্মী। যতদিন বেঁচে আছি কাজ করে যাবো। বৃষ্টির মধ্যে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে এসে প্রমাণ করেছেন আমরা সফল। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো এতো জনসমর্থন নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়নি। তাই আমরা এই দেশ, এই জাতি কখনো হার মানিনি, মানব না।




