সব জেলায় সার মনিটরিং সেল, সাড়ে ১৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকার দাবি

সব জেলায় সার মনিটরিং সেল, সাড়ে ১৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকার দাবি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

দেশের সার ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, সার বিতরণে কোনো অনিয়ম বা সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেলে এসব সেল তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাবনা-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজিবুর রহমান কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধিতে সার সংকট নিয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করলে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

চাহিদার চেয়ে বেশি সার মজুত

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন। বিপরীতে মজুত রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। ফলে চাহিদা পূরণের পর প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার উদ্বৃত্ত থাকার কথা।

তিনি বলেন, সার বিতরণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দেশের প্রতিটি মনিটরিং সেল দুজন করে যুগ্মসচিব ও উপসচিবের তত্ত্বাবধানে কাজ করছে। দেশের যেকোনো স্থান থেকে সারসংক্রান্ত অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্ট মনিটরিং সেল তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

শূন্য ডিলারশিপে নতুন নিয়োগ

সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের মাধ্যমেই এতদিন সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯ জন বর্তমানে অনুপস্থিত বা পালিয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ডিলারশিপ শূন্য রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ৬৪ জেলায় বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, আবেদন ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

এই শূন্য পদ পূরণে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন ডিলার নিয়োগের পর প্রত্যেক ডিলার ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও দুজন করে অতিরিক্ত ডিলার নিয়োগ করবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে সার বিতরণব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

এখনই সার সংকট নেই: প্রতিমন্ত্রী

দেশে সার সংকটের অভিযোগ প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমানে আমন ধান পাকার পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে এই মুহূর্তে সারের ব্যাপক চাহিদা নেই।

তবে কৃষকেরা আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য আগেভাগে সার কিনে রাখার চেষ্টা করছেন। এর ফলে বিশেষ করে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এখনো নতুন ডিলার নিয়োগ দেয়নি। কারণ ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে সারের মজুত পর্যাপ্ত: মীর শাহে আলম

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।

তিনি জানান, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া মজুত রয়েছে ৪ লাখ ১৮ হাজার টন। এ ছাড়া টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন মজুত রয়েছে।

পরিবহনের পথে রয়েছে আরও ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন টিএসপি, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন ডিএপি এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন এমওপি

আরও ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা

মীর শাহে আলম জানান, বর্তমানে সারাদেশে ১ হাজার ১০৫ জন মূল ডিলার এবং ৩১ হাজার ৬০০ জন খুচরা ডিলার রয়েছেন।

সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে ৮ হাজার ৬৮৭ জন নতুন ডিলার এবং ১৬ হাজার খুচরা ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

সরকারের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ডিলার নিয়োগ, জেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেল এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।