× Banner
সর্বশেষ
৬ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত গ্লোবাল এআই লিডারশিপ কনফারেন্স ২০২৬, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আহ্বান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নতুন সম্ভাবনা, প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে চীন ও রাশিয়াকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করবে ভারত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে এইচআরসিবিএম রাষ্ট্র সংস্কার ও সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের দেশের ৭ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত গত ছয় মাসে ৮২৪টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত -এইচআরসিবিএম আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকালেই রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায়

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে গৌরনদীতে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রমরমা বাণিজ্যে

Kishori
হালনাগাদ: রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বরিশালের গৌরনদীতে বে-সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই তৃতীয়াংশ মালিকরা রমরমা বাণিজ্যে চালিয়ে আসছেন। এতে চিকিৎসা সেবার নামে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন রোগীরা।স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বে-সরকারি ক্লিনিকের নিবন্ধন পেতে প্রয়োজনীয় ভৌত সুবিধা, সার্বক্ষণিক ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়া, ক্লিনারসহ প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ থাকা অত্যাবশ্যক।

সূত্রে আরো জানা গেছে, ১০ বেডের একটি ক্লিনিকের অনুমোদনের ক্ষেত্রে শুধু রোগীর ওয়ার্ডের জন্য প্রতি বেডে ৮০ বর্গফুট করে মোট ৮০০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। সেই সঙ্গে ওটি, পোস্ট ওপারেটিভ, ওয়াশ, ইনস্ট্রæমেন্ট, লেবার, ডক্টরস ডিউটি, নার্সেস ডিউটি, অপেক্ষমাণ, অভ্যর্থনা, অফিস, চেইনঞ্জিং কক্ষ সহ সামঞ্জস্যপূর্ণ কমপক্ষে ১৩টি কক্ষ থাকার নিয়ম রয়েছে।

এছাড়াও পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেট, প্রশস্ত সিঁড়ি, জেনারেটরসহ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে (বিল্ডিং তিন তলার অধিক হলে) লিফটের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ওটি রুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ওটি টেবিল, পর্যাপ্ত ওটি লাইট, সাকার মেশিন, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, ডায়াথারমি মেশিন, জরুরি ওষুধের ট্রে, রানিং ওয়াটার, অক্সিজেন, আইপিএসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

সাধারণ বর্জ্য, ধারালো বর্জ্য, জীবাণুযুক্ত বর্জ্য, তরল বর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও থাকা অত্যাবশ্যকীয়। জনবল কাঠামোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, তিন জন ডিউটি ডাক্তার, ছয়জন ডিপ্লোমা নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়া, ক্লিনারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার বিধান রয়েছে। তবে গৌরনদীর বিভিন্ন প্রান্তে বে-সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই তৃতীংশ প্রতিষ্ঠান সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করেই চালিয়ে আসছেন ব্যবসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারপাশে আধা কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ১০/১৫টি ও গৌরনদী বন্দর রোড, টিএনটি মোড়, বেজগাতি, বাটাজোর, সুন্দরদী, বাকাই হাট ও হোসনাবাদ লঞ্চঘাট, মাহিলাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় ৪৪টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের উত্তর ও পশ্চিম প্রান্তের প্রাচীর ঘেঁষেই ১০টির মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে।

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ভৌত (কক্ষ) সুবিধা ও প্যাথলজিক্যাল স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশও নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে বেবী ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিবেশ, ফায়ার সার্ভিস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেই। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পোস্ট ওপারেটিভ রুম, ডিউটি ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রয়োজনীয় জনবল নেই অনেক প্রতিষ্ঠানে। মানহীন এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই প্রতারিত হচ্ছেন রোগীরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে ও ভিতরে ভীর করছেন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা। এসব দালালদের মাধ্যমেই প্রতারিত হচ্ছেন রোগীরা। সরকারী হাসপাতালের মধ্যে এসব দালালদের অবাধ চলাফেরা থাকলেও রহস্যজনক কারনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রয়েছে নিরব ভূমিকায়। ফলে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে দালালের দৌরাত্ম।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..