শ্রীশ্রী কামাক্ষ্যা দেবীর পূজা আজ

শ্রীশ্রী কামাক্ষ্যা দেবীর পূজা আজ

শ্রীশ্রী কামাক্ষ্যা দেবীর পূজা আজ।  সনাতন ধর্মীয় শাক্ত মতের অন্যতম প্রধান দেবী শ্রীশ্রী কামাক্ষ্যা। আসামের নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত Kamakhya Temple ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম বলে বিবেচিত। শাক্ত ও তান্ত্রিক সাধনায় এই পীঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে দেবী সতীর যোনি অংশ পতিত হয়েছিল। তাই এখানে দেবীকে সৃষ্টিশক্তি, মাতৃত্ব ও মহাশক্তির প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।

অম্বুবাচী মহাযোগ উপলক্ষে ভারতের আসাম রাজ্যের ঐতিহাসিক Kamakhya Temple-এ শুরু হয়েছে লাখো ভক্তের সমাগম। দেবী কামাক্ষ্যার বার্ষিক রজঃস্বলা পর্বকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত এই ধর্মীয় আয়োজনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও তান্ত্রিক সাধকদের উপস্থিতিতে নীলাচল পাহাড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অম্বুবাচী পর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের গর্ভগৃহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ সময় দেবী কামাক্ষ্যা রজঃস্বলা অবস্থায় থাকেন। তাই তিন দিন ধরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও দর্শন বন্ধ রাখা হয়। এই সময় ভক্তরা উপবাস, জপ, ধ্যান ও বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে দেবীর আরাধনা করেন।

শাক্ত ধর্মাবলম্বীদের কাছে কামাক্ষ্যা পূজা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেবীকে সৃষ্টিশক্তি, উর্বরতা ও মাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। অম্বুবাচী পর্বে নারীশক্তির এই প্রতীকী রূপকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার ভক্ত মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থান করছেন।

মন্দির প্রশাসনের তথ্যমতে, আগামী ২৬ জুন বিশেষ শুদ্ধিকরণ ও পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দিরের দ্বার পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে মহাপূজা এবং ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে পবিত্র ‘অঙ্গোদক’ ও ‘অঙ্গবস্ত্র’। এসব প্রসাদকে দেবীর আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়।

এদিকে বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে আসাম সরকার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পানীয় জল সরবরাহ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, কামাক্ষ্যা পূজা কেবল একটি পূজা নয়; এটি শক্তি উপাসনা, তান্ত্রিক সাধনা এবং নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও অম্বুবাচী মহাযোগ লক্ষাধিক মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত।

শ্রীশ্রী কামাক্ষ্যা পূজা

Image

Image

Image

Image

Image

Image

Image

শ্রীশ্রী কামাক্ষ্যা দেবী হিন্দু শাক্ত ধর্মের অন্যতম প্রধান দেবী। আসামের নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত Kamakhya Temple ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম বলে বিবেচিত। শাক্ত ও তান্ত্রিক সাধনায় এই পীঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে দেবী সতীর যোনি অংশ পতিত হয়েছিল। তাই এখানে দেবীকে সৃষ্টিশক্তি, মাতৃত্ব ও মহাশক্তির প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।

পূজার তাৎপর্য

কামাক্ষ্যা পূজা মূলত শক্তি, সমৃদ্ধি, মনোবাঞ্ছা পূরণ, আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং মাতৃশক্তির আরাধনার জন্য করা হয়। কামাক্ষ্যা উপাসনা শাক্ত ও তান্ত্রিক উভয় ধারাতেই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

সাধারণ পূজা-পদ্ধতি

১. স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করা।
২. পূজাস্থলে দেবীর ছবি বা প্রতীক স্থাপন করা।
৩. প্রদীপ, ধূপ, ফুল, ফল ও নৈবেদ্য নিবেদন করা।
৪. “ওঁ হ্রীং কামাক্ষ্যৈ নমঃ” মন্ত্র জপ করা।
৫. দেবীর চরণে প্রার্থনা ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা।
৬. আরতি ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে পূজা সমাপ্ত করা।

অম্বুবাচী পরবর্তী পূজার মাহাত্ম্য

অম্বুবাচী পর্ব শেষে কামাক্ষ্যা দেবীর বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ লাভের জন্য মন্দিরে সমবেত হন এবং অঙ্গোদক ও অঙ্গবস্ত্র প্রসাদ গ্রহণ করেন। অম্বুবাচী উৎসব নারীশক্তি, উর্বরতা ও সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

কামাক্ষ্যে বরদে দেবী নীলপর্বতবাসিনী।
ত্বং দেবী জগতাং মাতর্যোনিমুদ্রে নমোস্তুতে॥

অর্থ: হে নীলপর্বতবাসিনী বরদায়িনী কামাক্ষ্যা দেবী, হে জগতের জননী, আপনাকে প্রণাম।

জয় মা কামাক্ষ্যা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।