শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাগআঁচড়া-নাভারণ-বেনাপোল শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাগআঁচড়া-নাভারণ-বেনাপোল শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন
 বর্ণাঢ্য আয়োজন, উৎসবমুখর পরিবেশ ও শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বাগআঁচড়া-নাভারণ ও বেনাপোল সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে ভোট গ্রহণ। বাগআঁচড়া হাইস্কুল চত্বরে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রটি সকাল থেকেই রূপ নেয় এক মিলনমেলায়। প্রার্থীদের পক্ষে কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি ও ভোটারদের দীর্ঘ সারি প্রাণচাঞ্চল্যে ভরিয়ে তোলে পুরো এলাকা।
এবারের নির্বাচনে মোট ১২২৬ জন ভোটারের মধ্যে ১১৩৯ জন শ্রমিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সভাপতি পদে আজিজুর রহমান বাবু ৭৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুহুল আমীন টুটুল পেয়েছেন ৩৮১ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুর রাজ্জাক ৭৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৩০ ভোট।
এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বিজয়ী হয়েছেন শ্রমিকদের পছন্দের প্রার্থীরা। সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন তাজরুল ইসলাম ও ইউনুস আলী। যুগ্ম সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন জাকির হোসেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন কামরুজ্জামান লাল্টু। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন লিটু ও মন্টু সরদার। প্রচার সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন উজ্জ্বল কবির। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আবুল কালাম। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শামীম হোসেন। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাসার বিশ্বাস। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হয়েছেন জামসেদ আলী। সড়ক সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন আরশাদ হোসেন সন্টু। সমাজকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন তবিবর রহমান। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল আজিজ ও আল-আমিন।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে শ্রমিক ইউনিয়ন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান রবিউল হোসেন জানান, শ্রম অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালিত হয়। ১৭ জন প্রিজাইডিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে ১২টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। সঙ্গে ছিল ১২ জনের মনিটরিং টিম, ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন ৩৫ জন পুলিশ সদস্য।
ভোট গ্রহণ শেষে যখন ফলাফল ঘোষণা করা হয়, তখন বিজয়ী প্রার্থীদের পক্ষে আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েন তাদের সমর্থকরা। প্রিয় প্রার্থীদের বিজয়ে শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা যায় স্বস্তির ছাপ। নির্বাচনের এই গণতান্ত্রিক চর্চা শ্রমিকদের মাঝে নতুন আশা ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
সংবাদ প্রতিনিধি

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।