পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সরকারি সূত্র। তবে নতুন করে কত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি
বুধবার (১২ আগস্ট) পাকিস্তানের সরকারি সূত্রের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা।
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের সম্মতির কথা জানিয়েছে। তবে বর্ধিত মেয়াদ কতদিন হবে, তা নির্ধারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনও বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু আলোচনা
চলমান সংকট কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৭ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনায় বসে।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বালোচিস্তানে স্বাধীনতা দিবস পালন
তবে আলোচনার অগ্রগতিতে পরে বাধা তৈরি হয়। বিশেষ করে ইরানের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
জুলাইয়ে ফের সামরিক সংঘাত
আলোচনা স্থবির হয়ে যাওয়ার পর জুলাইয়ের ৮ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ে।
আরও পড়ুনঃ চাঁদে ‘মুন বেস’ গড়তে ভারতের সহযোগিতা চায় যুক্তরাষ্ট্র
নতুন মেয়াদ নিয়ে চলছে আলোচনা
এখন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষের সম্মতির খবর এলেও কতদিনের জন্য তা বাড়ানো হবে, সেটিই আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান আলোচনাটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার জন্য কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগও বাড়তে পারে।
তবে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা না হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির পথ এখনও কঠিন হতে পারে।

