যশোরে প্রায় বিশ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

যশোরে প্রায় বিশ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আবুল কালাম আজাদ, যশোর : ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে দুইদিনের প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় যশোরে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শীতকালীন সবজি, সরিষা, মসুর, আলু, গম ও বোরো বীজতলা। 

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ১২ হাজার ২৭০ হেক্টর শীতকালীন সবজি ক্ষেতের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল, ৫ হাজার ৭০৫ হেক্টর মসুর ক্ষেতের মধ্যে ৪ হাজারা ১ শ হেক্টর, ১৫ হাজার ৮৯০ হেক্টর সরিষার ক্ষেতের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর, ৯৩৫ হেক্টর আলুর ক্ষেতের মধ্যে প্রায় ৩শ’ হেক্টর, প্রায় ৫শ হেক্টর গম ক্ষেতের মধ্যে ২শ’১০ হেক্টর এবং ৩৭৫ হেক্টর বোরো বীজতলার মধ্যে ২৫০ হেক্টর বীজতলা তলিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন, শীতকালীন সবজি বাজারে উঠানোর মূহুর্তে ক্ষেতগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া ৭০ ভাগ ফসলই নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে বড়ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। এ ক্ষতি কোনভাবেই পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।
যশোর চুড়ামনকাটি এলাকার কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন,  গত দুইদিনের প্রবল বর্ষণের কারণে আমার তিন বিঘা বাঁধাকপি দুই বিঘা সিস ও ১০ কাঠা মুলা তলিয়ে গিয়েছে। বর্ষার সময় এমন বৃষ্টি দেখা যায়নি। এ ক্ষতি কোনো ভাবে পূরণ করা সম্ভব না।
আব্দুলপুর এলাকার রফিক সরদার বলেন, আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করার সময় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আবার যখন সবজির দাম পাওয়া শুরু করলাম তখন দুই দিনের বৃষ্টিতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ যদি আমার দিকে একটু নজর দিতো তাহলে আমরা বাঁচে থাকতাম।
শওকত আলী বলেন,  আমি দুই বিঘা জমিতে পটল, ৩বিঘা বাঁধাকপি ও ১বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। কয়েক দিন পর বিক্রয় শুরু করবো। টানা বৃষ্টিতে আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। সরকার যদি আমাদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করতো তাহলে আমাদের মতন কৃষক সবজি উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারত।
কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তর যশোর উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, বলেন, ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণেই ফসলের যে ক্ষতি তা অপুরণীয়। তবে কৃষকরা যাতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন তার জন্য আগামীতে তাদের প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।