নয়ন লাল দেব, মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারে যৌতুকের জন্য স্ত্রীর শরীরে তপ্ত জল ঢেলে ঝলসে দিলো স্বামী।
জানা যায় প্রায় ৫ বছর পূর্বে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের আব্দা গ্রামে মৃত বিধু কান্তি নাগের ছেলে সঞ্জিত কান্তি নাগের সাথে একই উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের মাসকান্দি গ্রামে অবিনাশ দেবের মেয়ে অনামিকা দেবের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নানান সময় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতো সঞ্জিত। যৌতুক না দিতে পারলে স্ত্রীর উপর চালাতো অমানবিক নির্যাতন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকদফা সালিশ হলেও সঠিক সুরাহা হয়নি। চার বছরের একটি কণ্যা সন্তানও রয়েছে তাদের।
সর্বশেষ ২০ ডিসেম্বর রবিবার সকালের যৌতুক না পাওয়ার আক্রোশে সামান্য বিষয় নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে স্ত্রী অনামিকা দেবের শরীরে তপ্ত গরম জল ঢেলে ঝলসে দেয় স্বামী সঞ্জিত কান্তি নাগ। স্বামীর ঢেলে দেওয়া তপ্ত জলে শরীরের পিঠের অংশ সহ বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায় অনামিকার।
এসময় স্বামীর বড় ভাই রঞ্জিত নাগ সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সঞ্জিতকে নির্যাতনে সহযোগীতা করেছে বলেও অভিযোগ করেন অনামিকা। ঘটনার পর সঞ্জিতকে পালিয়ে যেতেও বড় ভাই রঞ্জিত নাগ মূখ্য ভূমিকা পালন করেন এবং ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানান নির্মম নির্যাতনের স্বীকার অনামিকা দেব।
উক্ত ঘটনার পর অনামিকার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে একদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর আজ সোমবার ২১ ডিসেম্বর চিকিৎসকরা তাকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন।
এ ঘটনায় গতকাল মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি অভোযোগ দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে মৌলভীবাজার থানা পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ।
এছাড়া আজ সকালে নির্যাতিত ভিকটিমকে দেখতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন মৌলভীবাজার জেলা শাখার প্রতিনিধি হিসাবে শাখার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এড. বিষ্ণুপদ ধর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এড. সঞ্জয় কান্তি বিশ্বাস, তপন দত্ত, অর্থ সম্পাদক নয়ন লাল দেব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মেরাজ চৌধুরী ও মহিলা সম্পাদিকা রিনা দত্ত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যান, এবং ভিকটিমের পাশে থেকে সুবিচার নিশ্চিত করতে যেকোন প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।





