মাদারীপুরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষক কারাগারে

মাদারীপুরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষক কারাগারে

মাদারীপুরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বিচারক।

বিষয়টি প্রথমে গোপন থাকলেও মঙ্গলবার দুপুরে জানাজানি হয়। গ্রেফতার জসিম বেপারী ডাসার উপজেলার পূর্ব কমলাপুর গ্রামের সোমেদ বেপারীর ছেলে ও একই উপজেলার ১১৫নং আলহাজ্ব সৈয়দ আতাহার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তবে, জসিমের পরিবারের দাবি চক্রান্ত করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। দ্রুত নিঃশর্ত ওই শিক্ষকের মুক্তি চান পরিবারের সদস্যরা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত এক সপ্তাহ একাধিকবার জসিম বেপারীর তার ব্যবহৃত মোবাইলে অন্তবর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করেন। সেখানে ভূয়া গেজেট তৈরি করে অপ্রচারের পরিকল্পনা করেন। জননিরাপত্তা বিনষ্ট করার পাশাপাশি সার্বভৌমত্ম নষ্ট করার পায়তারা করেন অভিযুক্ত জসিম বেপারী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে গত ১৩ মার্চ রাতে ডাসারের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করে ডাসার থানা পুলিশ। পরে ডাসার থানার এসআই (উপপরিদর্শক) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১৪ মার্চ আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বড়ভাই ইলিয়াস বেপারী বলেন, আমার ভাইকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা ভাই রাষ্ট্রদ্রোহ কোন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নয়। তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পুলিশ মামলায় জড়িয়েছে। একজন শিক্ষক সমাজের মরুদন্ড। সেই মেরুদন্ডকে পুলিশকে মামলা দিয়ে এভাবে গ্রেফতার করবে বুঝতে পারিনি। আমরা তার দ্রত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সহকারি শিক্ষক জসিম বেপারী রাষ্ট্রদোহ মামলায় ১৩ মার্চ গ্রেফতার হন। বিষয়টি জানার পরে ১৬ মার্চ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রাথমিক অধিদফতর। মামলা চলাকালীন সময়ে তিনি শুধুমাত্র খোরাকি ভাতা পাবেন।

মাদারীপুরের ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, শিক্ষককে রাষ্ট্রদোহ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। পূর্ণ তদন্ত শেষ হলে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে। এছাড়া তাকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত। রিমান্ডে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে ফরেনসিক করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।